পানীয় জল নিয়ে চলছে ছেলেখেলা! অধিকাংশ সংস্থার জলই পানের অযোগ্য

বর্তমান উন্নত প্রযুক্তির দুনিয়ায় পরিবেশ দূষণের মাত্রা নির্দিষ্ট সীমারেখা লংঘন করে গিয়েছে। জল, বাতাস, মাটি ক্রমেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। এমতাবস্থায় জীবনদায়ী জল টুকুও কিনে খেতে হয়। খাবার জলকে কেন্দ্র করেও গড়ে উঠেছে বেশ বড়সড় ব্যবসা! ২০ লিটারের বোতল বন্দী জল কোথাও ২০ টাকায় আবার কোথাও বা ৪০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে। উপায়ন্তর না দেখে এবং কিছুটা অন্ধভাবে বিশ্বাস করেই সেই জল কিনে পান করছেন আমজনতা।

কিন্তু এই জলই বা কতটা ব্যবহারের উপযোগী! এই সমস্ত বোতলবন্দী জলের কোনো ট্যাগ থাকে না, এই জল আদেও পান উপযোগী কিনা তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশেষজ্ঞদের চাঞ্চল্যকর দাবি, পানীয় জলকে কেন্দ্র করে এক চোরা ব্যবসা গড়ে উঠেছে। নদিয়া-মুর্শিদাবাদসহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বেআইনিভাবে জল সরবরাহ করা হচ্ছে। কারণ এই জল সরবরাহ কারী সংস্থা গুলি এমন ভূগর্ভস্থ জলস্তর থেকে জল সংগ্রহ করছে যা বিপদসীমা লংঘন করে গিয়েছে!

বিশেষত নদিয়ার নাকাশিপাড়া, চাপড়া, কৃষ্ণনগর-১, ২, কালীগঞ্জ, হাঁসখালি, করিমপুর-১,২, তেহট্ট-১,২ ব্লক এবং মুর্শিদাবাদের বহরমপুর, রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি, ইসলামপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের বেআইনি কারবার বেশি চলছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিপদসীমা অতিক্রান্ত এই ভূগর্ভস্থ জল পান করলে শারীরিক ক্ষতি হতে পারে। সুইডের নদিয়া জেলার জিওলজিস্ট মালতি মাণ্ডি জানিয়েছেন, এই ধরনের খবর মিলতেই তৎক্ষণাৎ অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

প্রায় একই কথা শোনা গেল মুর্শিদাবাদের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত জিওলজিস্ট শমীক চট্টোপাধ্যায়ের মুখেও। তিনি জানালেন, এই ধরনের অভিযোগ আগেও বহুবার উঠেছে। সমগ্র পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। জল সরবরাহকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা স্টেট ওয়াটার ইনভেস্টিগেশন ডাইরেক্টরেট তথা সুইডের নির্দেশ মানছে না। সুইড এবং ফুড সেফটি অ্যান্ড স্যান্টার্ড অথরিটি অব ইন্ডিয়ার বিআইএসের শংসাপত্র বাধ্যতামূলক হলেও, অধিকাংশ জল সরবরাহকারী সংস্থার কাছেই এই শংসাপত্র থাকে না। ফলে এই জল ব্যবহারের স্বাস্থ্যের ক্ষতির সম্ভাবনা এড়ানো যাচ্ছে না।