বিরোধীদের দাবি উড়িয়ে কৃষি বিল পাশ করালো মোদী সরকার, বিক্ষোভ কৃষকদের

রবিবার, সংসদের বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও রাজ্যসভায় নতুন কৃষি বিল পাশ করিয়ে নিল কেন্দ্রীয় সরকার। এখন শুধু রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষা। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন মিললেই কৃষি বিলটি আইনে পরিণত হবে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে প্রস্তাবিত নতুন তিনটি কৃষি বিল ‘কৃষি পণ্য লেনদেন ও বাণিজ্য উন্নয়ন’  ‘কৃষিপণ্যের দাম নিশ্চিত করতে কৃষকদের সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন চুক্তি’ এবং ‘অত্যাবশ্যক পণ্য আইন’, আগেই লোকসভায় পাশ হয়ে গিয়েছিল।

তবে এই বিল নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল। এদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন আকালি দলের সদস্যা হরসিমরত কৌর বাদল। ফলে স্বভাবতই কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়ছিল। রবিবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার রাজ্যসভায় নতুন তিনটি কৃষি বিল পেশ করেন। এদিনের অধিবেশনে তিনি জানান, বিলটি সর্বতোভাবে কৃষকদের পক্ষে নিরাপদ। কৃষকদের তাদের প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করবে না এই বিল।

তবে বিরোধীরা কেন্দ্রের এই তত্ব মানতে নারাজ। কংগ্রেস দলের তরফ থেকে সরাসরি এই কৃষি বিলটিকে “কৃষকদের মৃত্যুর পরোয়ানা” বলে চিহ্নিত করা হয়। কংগ্রেস জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই বিলে স্বাক্ষর করবে না। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, সিপিআইএমের কে কে রাগেশ, ডিএমকের ত্রিচি সিবা এবং কংগ্রেসের কে সি বেণুগোপাল দুটি কৃষি বিলকে সংসদের সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানাতে থাকেন।

আকালি দলের সদস্যা হরসিমরত কৌর বাদলের ইস্তফা প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত বলেন, কেন্দ্রের দাবি অনুযায়ী যদি এই বিল থেকে কৃষকেরা তাদের প্রাপ্য ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত না হন, তাহলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ইস্তফা দিলেন কেন? আকালি দলের সাংসদ নরেশ গুজরালও কৃষি বিল গুলিকে সংসদের সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর পক্ষেই সওয়াল করেছেন। তবে প্রবল বিরোধিতার মাঝেই এদিন সংসদে বিতর্কিত কৃষি বিল পাশ হয়ে যায়।