বিশ্বভারতী নিয়ে মুখ খুললেন মমতা, উপাচার্যকে নিয়ে তীব্র আক্রমণ

আসন্ন একুশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহল সরগরম। সেই রাজনীতির ছোঁয়া লেগেছে রবীন্দ্রনাথের বিশ্বভারতীতেও! বিশ্বভারতীর চারপাশে প্রাচীর তুলে দেওয়া হোক কিংবা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের বিশ্বভারতী সংলগ্ন বাসভবন “প্রতিচী”, রাজনীতি সর্বত্রই। বিশেষত বিশ্বভারতীকে কেন্দ্র করেও রাজ্যে বিজেপি-তৃণমূল সংঘাত অব্যাহত। সমালোচকদের দাবি, বিশ্বভারতীর বর্তমান উপাচার্যের বিজেপিযোগই নাকি এর পেছনে পরোক্ষে মদত যোগান দিচ্ছে!

অমর্ত্য সেনের সঙ্গে বিশ্বভারতীর কোন্দল বাঁধার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন তাঁর আসন্ন বীরভূম সফরে তিনি অমর্ত্য সেনের বিরুদ্ধে বিশ্বভারতীর অবস্থানের বিরুদ্ধে সওয়াল করবেন। কথা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উপাচার্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। “বিশ্বভারতী কি আর কোন প্রযোজ্য খুঁজে পেল না? বেছে বেছে বিজেপির স্টাম্প দেওয়া লোককেই উপাচার্য করতে হলো!”, প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, বিশ্বভারতীর বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের সঙ্গে বিশ্বভারতীর সংঘর্ষ বাঁধতে শুরু করে। তার উপর আবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বোলপুর সফরে উপাচার্যের অফিসে গিয়ে বেশ খানিকক্ষণ সময় কাটান। সেই ঘটনাকেই কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে এত কী কথা থাকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের? মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই উপাচার্য বিশ্বভারতীকে কার্যত দাঙ্গার প্রেক্ষাপট হিসেবেই গড়ে তুলছেন!

মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্যে এদিন বিশ্বভারতীর সঙ্গে অমর্ত্য সেনের মনোমালিন্যের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই অমর্ত্য সেনসহ অন্যান্য আশ্রমিকদের আকথা কুকথা বলা হচ্ছে। তাদের আক্রমণ করা হচ্ছে। এর তীব্র বিরোধিতা করার উদ্দেশ্যেই রাঙামাটির দেশে তার আগমন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিশ্বভারতীকে কেন্দ্র করে জঘন্য রাজনীতির উন্মেষ ঘটছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।