M.A. পাশ করা ছেলে, চা’ক’রি না পেয়ে ট্রেনে ট্রেনে হকারী ক’রে সংসার চা’লা’চ্ছে’ন প্রতিবন্ধী যুবক

গতবছর লকডাউন এর সময় আমরা শুনতে পেয়েছিলাম বহু হকার ট্রেন বন্ধ থাকার কারণে এ সংসার চালাতে পারেননি এবং অবশেষে বেছে নিয়েছিলেন মৃত্যুর পথ। তেমনই একজন হলেন মেদিনীপুরের গোপাল ঘরের বাসিন্দা শিবপ্রসাদ মিশ্র। আর পাঁচজন পরিচিত হকারের মত কিন্তু তিনি নয়। শিবপ্রসাদের কোমরের নিচের অংশটা একেবারেই নেই। মাত্র তিন বছর বয়সী একটি দুর্ঘটনায় কোমরের নিচের অংশটা বাদ পড়ে যায় শিবপ্রসাদের। বাবার সামান্য উপার্জন দিয়ে তার দিন কেটে ছিল। এই প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলেন তার জীবনের।

হাওড়া শাখার দক্ষিণ-পূর্ব লাইনের যে কোন ট্রেনে উঠলে আপনি দেখতে পাবেন এই মানুষটিকে। শরীরটাকে কোনরকমে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। পিঠে থাকে একটি কালো রঙের ব্যাগ। বাম হাতে একটি ধূপের বাক্স থাকে। অন্য হাত দিয়ে মেঝেতে ভারসাম্য রক্ষা করেন তিনি। একটানা বলে যান ধূপের গুনাগুন সম্পর্কে। এই ভাবেই হকারি করে নিজের সংসার চালান শিবপ্রসাদ।

সংস্কৃততে এমএ করেও জীবনে কোথাও প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি তিনি। ৫৬ শতাংশ নম্বর নিয়ে তিনি মাধ্যমিক পাস করেছিলেন। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন ৫২ শতাংশ নম্বর নিয়ে। পড়াশোনা শেষ করে তিনি আর পাঁচজনের মতো ভেবেছিলেন যে চাকরি করে সংসার চালাবেন কিন্তু রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তাতে, সব মানুষেরাই চাকরি পান না, তিনি তো একজন অক্ষম মানুষ।

একবার কেটে চাকরির জন্য মুখ্যমন্ত্রী কে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। কিন্তু কোন বার উত্তর পাননি তিনি। তৎকালীন পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কেউ চিঠি লিখেছিলেন এই হকার। দুর্ভাগ্যবশত চাকরির বাজারে সেখান থেকে এসেছিল একটি সাইকেল। এরপর কিছুটা ঘেন্না নিয়েই আর চেষ্টা করেননি তিনি। ট্রেনে ধুপ বিক্রি করে সংসার চলছে তার। এই ভাবেই হয়ত কেটে যাবে বাকি জীবনটা।