নজরে দিলীপ ঘোষের ব্যক্তিগত জীবন, রাজনীতিতে আসার আগে কি করতেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি

ফাইল ছবি

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিজেপির ভোট বৈতরণীর অন্যতম কান্ডারী তথা বিজেপির একনিষ্ঠ সাধক হলেন দিলীপ ঘোষ। ১৯৮৪ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের হাত ধরেই রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে আরএসএস থেকে বিজেপি দলে যোগদান করে আনুষ্ঠানিকভাবেই রাজ্য রাজনীতির অংশীদার হন তিনি। রাজ্য রাজনীতিতে তার গুরুত্ব অপরিসীম। দল তার গুরুত্ব বুঝে তাকে ২০১৫ সালেই রাজ্য সভাপতির দায়ভার প্রদান করে।

এহেন দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণের পূর্ব জীবন কেমন ছিল? ঝাড়গ্রাম পলিটেকনিক কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে ২ বছরের জন্য মহেন্দ্রা অ্যান্ড মহেন্দ্রা কোম্পানিতে শিক্ষানবিশ হিসেবে চাকরি করার পরেও কেন এলেন তিনি রাজনীতিতে? এই প্রশ্নের একটিই জবাব। মানুষের সেবা করতে, মানুষের পাশে দাঁড়াতেই সুনিশ্চিত চাকুরী জীবন ত্যাগ করে রাজনীতির আঙিনায় এসে উপস্থিত হন দিলীপ ঘোষ‌।

১৯৮৪ সাল থেকেই রাজনীতির পথে তার পথ চলা শুরু হয়। তখন অবশ্য আরএসএস এর হয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। তার কাজকর্মে খুশি হয়ে আরএসএসের তরফ থেকে তাকে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। প্রাক্তন আরএসএস প্রধান কে এস সুদর্শনের সহকারী হিসেবেও কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন দিলীপ ঘোষ।

এরপর কাট টু ২০১৪। বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। তার আমলে রাজ্যে যেভাবে সংগঠনের কাজ দ্রুত এগোচ্ছিল তাতে এক বছরের মধ্যেই তাকে বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের জ্ঞান সিং সোহানপালকে পরাজিত করে মেদিনীপুরের খড়গপুর সদর আসন থেকে জয়লাভ করেন দিলীপ ঘোষ।

উল্লেখ্য, ১৯৮২ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত খড়গপুর সদর আসনে টানা সাতবার জয়ের রেকর্ড ছিল জ্ঞান সিং সোহানপালের। তার মতো পরাক্রমী প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করা দিলীপ ঘোষের মতো রাজ্য রাজনীতির নতুন সদস্যের পক্ষে মুখের কথা ছিল না। তবুও সেই অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছেন তিনি। তার সঙ্গেই বঙ্গ-বিজেপি শিবিরে নিজের স্থানও বেশ পাকা করে নিয়েছেন তিনি।