লকডাউন, বাড়ি ফেরার তাগিদে 2 হাজার কিমি পথ পাড়ি সাইকেলে, ফিরলেন ডায়মন্ড হারবারের বাড়িতে

ফটো ক্রেডিট: এই সময়

গোটা দেশ জুড়ে করোনা মোকাবিলার জন্য লকডাউনে চলছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়া নিষেধ। লকডাউনে দেশের দক্ষিণ প্রান্তে আটকে পড়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের এসি মিস্ত্রি আতিউল। তামিলনাড়ুর সালেম থেকে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার পথ সাইকেলে পাড়ি দিয়ে ১২ দিন পর বুধবার ঘরে ফিরলেন ২৩ বছরের যুবক। লকডাউন ঘোষণার দিন পাঁচেক আগে তামিলনাড়ুর সালেম এলাকায় সেন্ট্রাল এসি বসানোর কাজে গিয়েছিলেন তিনি।

কাজ শুরু হওয়ার আগেই দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার জন্য সেখানে আটকে পড়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের রামনগর থানার সিমলা গ্রামের বছর তেইশের আতিউল শাহ। কাজ করতে না পারায় টাকাও পাননি তিনি। নিজের হাত খরচের টাকাও শেষ হয়ে গিয়েছিল। বাড়িতে ফোন করে টাকা চান তিনি। তাঁর দাদা ৩ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেই টাকাও কিছুদিন যেতেই শেষ হয়ে যায়।

গত ১৭ এপ্রিল রাতে তিনি সাইকেলে চেপে রওনা হয়েছিলেন বাড়ির উদ্যেশ্যে। দিনের অধিকাংশ সময় টানা সাইকেল চালাতেন আতিউল, ক্লান্ত হয়ে গেলে রাস্তার পাশে বন্ধ দোকানের মেঝে বা মন্দিরের চাতালে বসে বিশ্রাম নিতেন। কোথাও দোকান খোলা দেখলে কিছু কিনে খেতেন। কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যদের রান্না খাবার দিতে দেখলে সেখানেও খেতেন তিনি। রাতে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে ফাঁকা রাস্তায় ব্রিজের নীচেও আশ্রয় নিয়েছেন। রাস্তায় টহলদারি পুলিশ আটকালে হাতেপায়ে ধরে রেহাইও মিলেছে তাঁর। বুধবার সকালে আতিউল বাড়িতে ফেরেন। তারপর ভিড় জমান গ্রামবাসীরা।

তবে গ্রামবাসীদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে গ্রামীণ স্বাস্থ্য কর্মীর সহযোগিতায় দুপুরে পরিবারের লোকজনেরা আতিউলকে চিকিৎসার জন্য ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখে শারীরিক পরীক্ষার পর আতিউলকে হোম কোয়ারান্টিনে থাকার নির্দেশ দেন চিকিৎসকেরা। আগামী ১৪ দিন নিজের বাড়িতেই ঘরবন্দি থাকবেন আতিউল। আতিউলের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডায়মন্ড হারবার ২ নম্বর ব্লকের যুব তৃণমূলের সভাপতি মাহাবুবার রহমান গায়েন। বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌছে দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সাহায্যেরও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফেরার পথে আতিউল বলেন, ওখানে আটকে থাকলে তাঁকে না খেয়ে মরতে হত। ওই আবাসনের নিরাপত্তারক্ষী সাইকেল না দিলে হয়তো বাড়িতেই ফিরতে পারতেন না বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ফেরার পথে বহু মানুষ তাঁকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর পা ফুলে গিয়ে যন্ত্রণা হচ্ছিল, তা দেখে ওষুধ কিনে দেওয়ার পাশাপাশি মাস্কও কিনে দিয়েছেন পুলিশকর্মীরা। ২ দিন ৩ দিন অন্তর রাস্তায় ডিউটিতে থাকা পুলিশকর্মীদের ফোন থেকে বাড়িতে যোগাযোগ রাখতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন