দ্রুত স্কুল খুলে দেওয়া হোক, পঠন পাঠন শুরু হোক আগের মতোই, বক্তা WHO-এর প্রধান গবেষক

করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার্থে প্রায় পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান গবেষক ডঃ সৌম্যা স্বামীনাথন এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানালেন, ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে যত শীঘ্র সম্ভব স্কুল প্রতিষ্ঠানগুলি পুনরায় চালু করার বিষয়ে এবার গুরুত্ব দেওয়া দরকার। তার মতে, আর বেশি সময় ধরে স্কুল-কলেজগুলি বন্ধ রাখা মানে ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া।

উল্লেখ্য, প্রায় ছয় মাস ধরে স্কুল-কলেজের পঠন-পাঠন বন্ধ রাখার পর, আগামী মাস থেকে রোটেশন পদ্ধতিতে শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরায় চালু করার ব্যাপারে ভাবছে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার। এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাচ্ছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান। তার মতে, এভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য পঠন-পাঠন বন্ধ রাখলে, ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষার মূল স্রোত থেকে হারিয়ে যায়। অতএব ছাত্র-ছাত্রীদের কথা মাথায় রেখেই যত শীঘ্র সম্ভব পুনরায় স্কুল-কলেজ চালু করা দরকার।

ডক্টর স্বামীনাথনের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলছুট থাকলে, শিশুদের ওপর অত্যাচার, হেনস্থা এমনকি সমাজে বাল্যবিবাহের ঘটনা বেড়ে যেতে পারে। এদিকে, করোনা মহামারীর মধ্যেও কিন্তু থেমে নেই শিক্ষাব্যবস্থা। ইতিমধ্যেই দেশের বহু স্কুলের তরফ থেকে অনলাইনে শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে, তাতেও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ দেশের বহু পড়ুয়ার পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে।

সে দিক বিবেচনা করে ডক্টর স্বামিনাথান জানালেন, অবিলম্বে স্কুল-কলেজ খোলা না হলে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়বে দেশের দরিদ্র এবং প্রান্তিক পড়ুয়ারা। এমনিতেই স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের অভাবে পিছিয়ে পড়ছে তারা। এরপর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহই হারিয়ে ফেলবে তারা। তার মতে, এই পরিস্থিতির মধ্যে স্কুল খোলা যথেষ্ট বিপদজনক হতে পারে। তবুও যেসব এলাকায় সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে কম আপাতত সেখানেই স্কুল খোলা হোক।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন