লকডাউনে জলদূষণ সর্বনিম্নে, নতুন করে গঙ্গায় বিপুল পরিমানে সংখ্যাবৃদ্ধি ডলফিনের

ফাইল ছবি

করোনার জেরে গোটা দেশ জুড়ে লকডাউন। লকডাউনের ফলে নিজের বাড়িতেই থাকছেন মানুষ। বেশিরভাগ সময়ের ফাঁকা থাকছে রাস্তাঘাট। পশু, পাখিরা চলে আসছে লোকালয়ে। লকডাউনের শুরু হওয়ার পর গঙ্গায় ডলফিনও দেখা গিয়েছিল, যা এই সময় বিটল ঘটনা। এরই মধ্যে জানা যায়, ডলফিনের সংখ্যা বেড়েছে গঙ্গায়। কাটোয়ার যে অংশে ভাগীরথী প্রবাহিত হয়েছে, সেই অংশে খাবারের জোগান থাকায় আশপাশের এলাকা এসে সেখানে ডলফিনের দল ডেরা বেঁধেছে। গত বর্ষায় আমুমনিক ৬ টি ডলফিন সন্তান প্রসব করেছিল, এই বর্ষায় আনুমানিক ১১ টি ডলফিন সন্তান প্রসব করেছে।

সব সদ্যোজাত ডলফিন বেঁচে থাকলে ভাগীরথীর শুধুমাত্র কাটোয়া অঞ্চলে গাঙ্গেয় ডলফিনের সংখ্যা দাঁড়াবে আনুমানিক ৩২। বন দপ্তর এবং ডলফিন পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিগত ৪ বছরে এই সংখ্যা সর্বাধিক।কাটোয়া বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ অফিসার সুকান্ত ওঝা বলেছেন, এই এলাকায় নদীতে ডলফিন বাড়ছে এটা একটা বড় প্রাপ্তি। ডলফিনগুলিকে নিরাপত্তা দিতে সব সময় চেষ্টা করা হয় বলে জানান তিনি।

নয়াচরে ডলফিন নিয়ে গবেষণা করা নেচার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সোসাইটির প্রধান গণেশ চৌধুরী জানিয়েছেন, তিনি ১০ বছর ধরে এই অঞ্চলে ডলফিন নিয়ে কাজ করছেন। বছর ৮ আগে এই অঞ্চলে আনুমানিক ৭০ টি ডলফিনের উপস্থিতি ছিল, তবে ২০১৭ সালে সেই সংখ্যাটা কমে ২০ এর আশপাশে চলে আসে। এই এলাকায় সম্প্রতি ডলফিনের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ২১ টি। তাদের মধ্যে ১১টি ডলফিন সন্তান প্রসব করেছে এবং এর ফলে ডলফিনের সংখ্যাটা বেড়েছে। এই বছর বর্ষার শুরুতে ১১টি গর্ভবতী ডলফিন চোখে পড়েছিল।

এখন সবগুলোই সন্তান প্রসব করেছে, এর অর্থ হল, আরও ১১ টি ডলফিন বাড়ল। তবে তিনি বলেন, এই এলাকায় ডলফিনের সংখ্যাটা বাড়ল মনে এটা নয় যে সব জায়গাতেই বেড়েছে। এই এলাকাটি অজয় এবং ভাগীরথীর মোহনা, এই এলাকায় ঘোলা জল থাকার কারণে এই এলাকায় মাছ বেশি ডিম দেয়। তাই এখানে মাছ বেশি চলে আসে। মাছ বেশি থাকায় ডলফিনের খাবারও বেশি মেলে বলে সেখানে থাকতে শুরু করেছে।