ফুচকা বি’ক্রি করেই ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দে’খ’ছে লেডি “ফুচকাওয়ালা”

ফুচকা মানে আমরা বুঝি কোন ছেলে অথবা কাকু ফুচকার হাঁড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। কিন্তু সবারই ধারনা টা একেবারে ভেঙে দিলেন খড়দহের মেয়ে জ্যোতির্ময়ী সাহা। সেই আর তার দাদা নিজেদের স্বপ্ন পূরণের জন্য একটি ছোট ফুচকার দোকান খোলেন। যার নাম রাখেন ‘ফুচকাwala’ । তাদের এই এগিয়ে যাওয়ার পথে সাক্ষী থেকে যাবে সবাই।

ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্রী জ্যোতির্ময়ী ইচ্ছা সে B.Tech কমপ্লিট করে এক বড়ো কম্পানিতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু গত বছর অর্থাৎ 2020 কুড়ির সময় করোনা কালীন সময় থেকে তাদের পরিবারে নেমে আসে দুঃখের ছায়া। লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েন। জ্যোতির্ময় দাদা দেবজ্যোতি সাহা একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরী করতেন। লকডাউনের সময় থেকে তার মাইনে অর্ধেক হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই তাদের পরিবারের কালো ছায়া নেমে আসে।

10 বছরের পুরনো বাবার একটি মুদিখানা দোকান ই তাদের সম্বল ছিল। যা অনেকবারই চালানোর চেষ্টা করায় দুই তিন মাস পর থেকেই তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে হার মানেনি তারা ভাই-বোন। অবশেষে সব চিন্তা-ভাবনা পেরিয়ে ঠিক করলো তারা ফুচকার দোকান দেবে। জ্যোতির্ময়ী ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে ফুচকাওয়ালী হবে। তাদের এই পরিকল্পনার কথা শুনে প্রথমে অনেকেই অবাক হয়েছিল। পাড়ার লোক থেকে শুরু করে নানা প্রতিবেশী কটুক্তি করেছিল। বলেছিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে শেষ-মেষ ফুচকার দোকান দিলো। তাদের ফুচকা অনেকে খেয়েছেন এবং ভালোবাসাও দিয়েছেন অনেক ভাবে।

এখন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নের পাশাপাশি ফুচকার দোকান টিকে আরো বড়ো করার স্বপ্ন রয়েছে তার মনে।একসময় তার মনে চিন্তা সৃষ্টি হয়েছিল। সে আদৌ ইঞ্জিনিয়ার হতে পারবে কিনা। তবে এখন আর তার মনে কোন দ্বিধা নেই। মানুষের ভালোবাসা আছে তার সাথে। সমাজের চোখে এক আলাদা দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছে জ্যোতির্ময়ী ও তার দাদা দেবজ্যোতি। মানুষের ভাবনা চিন্তা কিছুটা হলেও বদলাবে। তাদের আগামী দিনের জন্য শুভেচ্ছা রইল।