একদম হাস্যকর! এই গ্রামে ৫-৬ দিন পর ঘুম ভা’ঙে সকলের, কারণ জানলে আ’তঁ’কে উঠবেন

ঘুমাতে খুব ভালোবাসেন? একটানা কয়দিন ঘুমাতে পারবেন? আপনি যদি ঘুমাতে ভালবাসেন তাহলে একবার ঘুরে আসুন কাজাখস্তানের একটি রহস্যময় গ্রাম কালাচি তে। এর আগেও এই গ্রামের নাম বহুবার সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছিল। এখানে কিছু গ্রামবাসী একটানা ছয় দিন ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। রহস্যজনক ভাবে তাদের এই ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনা তাদেরকে গোটা বিশ্বের সামনে পরিচয় করিয়েছিল। শুধুমাত্র মানুষ নয়, পশুপাখিরাও এই গরমের হাত থেকে রেহাই পায়নি।

এই অদ্ভুত ঘুমের পাশাপাশি সকলের মধ্যে হ্যালুসিয়েশন এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা অত্যাধিক বৃদ্ধি পায় বলে জানা গেছে গ্রামবাসীদের তরফ থেকে। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর শিশুরা যেমন তার মায়ের মুখে হাতির শুঁড় গজাতে দেখে কেমন আবার অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের শারীরিক সম্পর্ক তৈরীর ইচ্ছা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এই হ্যালুসিয়েশন এবং যৌনমিলনে চাহিদা ছিল প্রায় সাত দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত।

একটি প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল যে, ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ১৬০ জন লোক এই অদ্ভুত পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল। একে বলা হয় স্লিপি হলো। সংবাদমাধ্যমের মত অনুযায়ী, হ্যালুসিয়েশন এর পাশাপাশি অনেকে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিল। ঘুম থেকে উঠার পর অনেক কিছুই মনে করতে পারেনি তারা।

গ্রামটি যেহেতু অবস্থিত সোভিয়েত যুগের একটি ইউরিনিয়াম খনির কাছে, তাই এই বিষয়টিকেও ঘুমের কারণ হিসেবে বিবেচনা করে ছিলেন অনেকেই। ১৯১৯ সালে খনি বন্ধ হয়ে গেলেও তার তেজস্ক্রিয় তা ছড়িয়ে গিয়েছিল মানুষের মধ্যে। তবে এর সঙ্গে কোন বিজ্ঞানসম্মত কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে সেই দেশের সরকার জলে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড এর মাত্রা বৃদ্ধির দাবি করেছিলেন ঘুমের কারণ হিসেবে। যার ফলে পরবর্তীকালে শতাধিক পরিবার অন্যত্র চলে গিয়েছিল।

পরবর্তীকালে একটি পরীক্ষায় প্রকাশিত হয় যে, গ্রামের মধ্যে কার্বন মনোক্সাইড এর পরিমাণ স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি ছিল। এই কার্বন মনোক্সাইড এর ফলে অস্বাভাবিকত্ব, তৈরি হয়েছিল যেটা অনেকেই মেনে নিতে নারাজ ছিলেন। তবে যেকোনো কারণেই হোক না কেন শুধুমাত্র ওই কদিন তাদের মধ্যে এই প্রভাব পড়েছিল। বর্তমানে সেখানে বসবাসকারী প্রত্যেকটি পরিবারের মানুষ স্বাভাবিকভাবে ঘুমায় এবং তাদের মধ্যে কোনরকম আশ্চর্যজনক লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।