সাধ্য নেই স্মার্টফোন কেনার, অনলাইন ক্লাস যেন তাদের স্বপ্ন! পড়ানো হবে কিভাবে?

করোনা মোকাবিলার জন্য গোটা দেশ জুড়ে লকডাউন চলছে। বন্ধ রয়েছে স্কুল কলেজ। এই পরিস্থিতিতে শোনা যাচ্ছে, সব জায়গাতেই অনলাইনেই পড়াশোনা হচ্ছে। তবে যে পরিবার আর্থিক বা সামাজিক ভাবে পিছিয়ে, যাদের স্মার্টফোন কেনার ক্ষমতা নেই, তাঁরা অনলাইনে পড়াশোনা করবে কিভাবে? জেলার সরকারি বাংলামাধ্যম স্কুলগুলিতে বিভিন্ন আর্থসামাজিক কাঠামো থেকে ছেলেমেয়েরা আসে। তাদের স্মার্টফোনের মাধ্যমে পড়ানো চালিয়ে যেতে অনেক স্কুলই সমস্যায় পড়ছে।

কারণ তাঁদের অনেকের বাড়িতেই স্মার্টফোন নেই। বিশেষ করে সমস্যায় পড়ছে প্রত্যন্ত প্রান্তের স্কুলগুলি। কারণ এই সব এলাকায় ফোনের নেটওয়ার্কও সব সময় ভাল কাজ করে না। তাই এই ভাবে ক্লাস চালানো সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনেক পড়ুয়ার বাড়িতে আবার একান্তে বসে ফোনে ক্লাস করার মতো জায়গা বা পরিবেশ নেই। অনেকেই আবার বাড়িতে এত বেশি কাজ করছে, যার ফলে ফোনের সামনে নির্দিষ্ট সময় বসে ক্লাসের সুযোগ পাচ্ছে না।

লকডাউনের সময় মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফ থেকে বিভিন্ন ক্লাস অনুযায়ী ওয়ার্কশিট এবং টাস্ক দেওয়া হয়েছিল। বেশির ভাগ স্কুল এগুলি ডাউনলোড করে ফটোকপি করে পড়ুয়াদের অভিভাবকের হাতে তুলে দিয়েছে। মিড ডে মিলের চাল আর আলু নিতে আসার সময় এগুলো দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নবন থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা তো মিড ড মিলের খাবার পায়না। তাই অনেক স্কুল স্থানীয় বিডিও-র কাছে অনুমতি নিয়ে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়ার অভিভাবকদের ডেকে এক সেট করে ওয়ার্কশিট দেওয়া শুরু করেছে। কিছু কিছু স্কুল এর বাইরেও নিজেরা কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে।

চাকদহের বিষ্ণুপুর হাইস্কুল প্রতিটি ক্লাসের সেকশন ধরে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছে। সেখানেই চলছে নিয়মিত পঠনপাঠন। স্কুলের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বিষয়ে পড়ানোর ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে। ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা হয়েছে। স্কুলের নিজস্ব ফেসবুক পেজেও শিক্ষকদের তৈরি বিভিন্ন ভিডিও দেওয়া হচ্ছে। স্কুলের প্রধানশিক্ষক সুশীতাভ ভট্টাচার্য বলছেন, এর জন্য যা খরচ হচ্ছে তা স্কুলের তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে।

রানাঘাট ভবানী হাইস্কুল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে পঠনপাঠন শুরু করেছে। তবে জেলা সদরে হলেও এ ব্যাপারে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে কৃষ্ণনগরের নামি স্কুলগুলি। অনেকেই এখনও সব ক্লাসের পড়ুয়াদের জন্য অনলাইন পঠনপাঠন পুরোদমে শুরু করতে পারেনি। কৃষ্ণনগর কলিজিয়েট স্কুল শুধু নবম, দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে ক্লাস চালাচ্ছে। বাকি ক্লাসের পড়ুয়াদের জন্য এখনও কোনও ব্যবস্থা করে উঠতে পারেননি স্কুল কর্তৃপক্ষ। কৃষ্ণনগর হাইস্কুলে প্রতিটি ক্লাসের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছে।

তবে সেখানে সব ছাত্রকে যুক্ত করা যায়নি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক উৎপল ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি থেকে পড়ুয়ারা আসে। সকলের কাছে এ ভাবে পড়াশনা চালানোর উপকরণ বা পরিবেশ নেই। করিমপুর জগন্নাথ হাইস্কুল বাংলা মাধ্যম স্কুল এখনও অনলাইনে পড়াশোনা চালাতে পারছে না। এটি একটি নামি স্কুল। এই স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক প্রিয়তোষ সরকার বলছেন, তাঁরা শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত উপযুক্ত অ্যাপের সন্ধান না পাওয়ায় অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করে উঠতে পারেননি বলে জানান তিনি।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন