বিদ্যার্থী প্রায় নেই বললেই চলে, স্কুল খোলা রেখে কি হবে? প্রশ্ন শিক্ষকদের একাংশের

দেশজুড়ে ফের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। দেশের পাশাপাশি রাজ্যেও দিন প্রতিদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমতাবস্থায় স্কুলে আসতে সাহস পাচ্ছেন না পড়ুয়ারা। বিশেষত তাদের অভিভাবকরাও ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানোর সাহস পাচ্ছেন না। তবুও সরকারের নির্দেশে স্কুলগুলি খোলা রাখতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্কুল গুলি খুলে রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

সরকারি নির্দেশে স্কুল খোলার পরপরই বেশ কিছু স্কুলের শিক্ষক এবং পড়ুয়াদের করোনা সংক্রমিত হওয়ার খবর মিলেছে। যে কারণে স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার খুবই কম। স্কুল খোলার পর পরই করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন শেঠ সুরজমল জালান বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা। যে কারণে স্কুল তিন সপ্তাহ বন্ধ ছিল। গত মঙ্গলবার স্কুল খোলা হলে ফের আরেক শিক্ষিকা করোনা আক্রান্ত হন।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা, নবম ও দশম শ্রেণির ফার্স্ট টার্ম পরীক্ষাও আপাতত স্থগিত হয়ে গিয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত ওই পরীক্ষা গুলি অনলাইনেই নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। রাজ্যের প্রায় প্রতিটি স্কুল এই করোনার ভয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতির হার কমছে। হাওড়ার দুইল্যা পাঁচপাড়া স্কুলের শিক্ষিকা সুমনা সেনগুপ্ত জানালেন ওই স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ৯৮ জন পড়ুয়ার মধ্যে মাত্র চার থেকে পাঁচজন স্কুলে আসছে।

বেশকিছু স্কুলে আবার করোনার দরুন সর্তকতা বিধিও লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, নিজের খরচে স্যানিটাইজেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। সব স্কুলে থার্মাল গান দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা করাও সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে অভিভাবকরা ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।