প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম, ফের মামলা হাইকোর্টে

প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিতর্কের রেশ যেন কিছুতেই রাজ্য সরকারের পিছু ছাড়ছে না। চাকরি প্রার্থীরা ক্রমাগত শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে গৃহীত পদক্ষেপের বিরোধিতা করে চলেছেন। এই বিক্ষোভের আঁচ প্রতিবারই হাইকোর্ট পর্যন্ত পৌঁছেছে। এবারও তার অন্যথা হলো না।

২০১৪ সালের টেট উত্তীর্ণদের নিয়ে সম্প্রতি যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য তার বিরুদ্ধে আরো একবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন চাকরিপ্রার্থীরা। নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সেই ২০১৪ সাল থেকেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রাথমিক শিক্ষক পদের চাকরি প্রার্থীরা। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে শেষমেষ ভোটের আগে ২০১৪ এবং ২০১৭ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সেরে ফেলার প্রয়াস চালিয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।

সেইমতো সরস্বতী পূজার আগের দিন মধ্যরাতেই নতুন করে মেধা তালিকা প্রকাশ করেছে পর্ষদ। তবে সম্পূর্ণ মেধাতালিকা অবশ্য প্রকাশ করা হয়নি। চাকরি প্রার্থীদের মধ্য থেকে যারা ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষায় বসে ছিলেন তারা নিজেদের রোল নাম্বারের মাধ্যমে কেবল নিজেদের ফলাফল জানতে পারছেন। এর ফলে চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে ফের মেধা তালিকা নিয়ে দুর্নীতির আশঙ্কা দানা বেঁধেছে।

সম্পূর্ণ মেধাতালিকা প্রকাশের দাবি নিয়ে তাই চাকরিপ্রার্থীরা এবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের এজলাসে ফের মামলা আদায় করেছেন। তাদের অভিযোগ, সরস্বতী পূজা উপলক্ষে দুটি ছুটির দিনেই সাতটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। সম্পূর্ণ মেধাতালিকাও প্রকাশ করা হয়নি। অতএব ফের দুর্নীতির সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে এড়ানো যাচ্ছে না। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ফের মামলা উঠলো আদালতে।