অমানবিক, গাছের সাথে হস্তিনীকে বেঁধে রেখে তুমুল অত্যাচার দুই মাহুতের, চোখ দিয়ে গড়াচ্ছে জল

আরো একবার পশু নির্যাতনের ঘটনা শুনতে পাওয়া গেল সোশ্যাল মিডিয়াতে। আরো একবার তামিলনাড়ুর বুকে প্রায় একই রকম ঘটনা ঘটে গেল। আরো একবার মানুষের হাতে অত্যাচারিত হতে হল নিরুপায় বন্যপ্রাণী কে। গত বছর আমরা ঠিক একই রকম ঘটনা শুনতে পেয়েছিলাম তামিলনাড়ু থেকে। গর্ভাবস্থায় বাজি খাইয়ে মা এবং সন্তানকে মেরে দেওয়া হয়েছিল। গ্রামবাসীদের হাতে নিশংসঘটনার শিকার হতে হয়েছিল এক বন্য প্রাণীকে। শুধুমাত্র সেই হাতি নয়, আমরাও যেন তার দুঃখে দুঃখিত হয়ে ছিলাম। মানুষের মনুষ্য হীনতা, নির্মমতা এবং নিষ্ঠুরতা যে কতখানি হতে পারে, সেটা আরো একবার স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল সেই ঘটনা থেকে।

একইভাবে আরো একবার সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে এলো একইরকম অত্যাচারের ঘটনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখা গেল যে, হোসেন একে গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে তুমুল পেটাচ্ছে দুই মাহুত। অবলা ওই প্রাণীটিকে দেখলে যেন আপনার বুক ফেটে কান্না চলে আসবে। এই অপরাধের বিচার বোধহয় আমাদের গুনতে হবে। মহামারী থেকে মহাপ্রলয়, সবকিছুরই সম্মুখীন হতে হবে আমাদের। আমাদের হাতেই মৃত্যু হবে আমাদের।

ঘটনাটি ঘটেছে সৃভিল্লিপুঠুর এর অন্ডাল মন্দিরে। এই মন্দিরে আয়োজিত একটি শিবিরে জয়মালথা নামে একটি হাতিকে নিয়ে আসা হয়েছিল।কোনো একটি কারণে মাহুতের কথার অমান্য হয়েছিল ওই হস্তিনী। সেই অপরাধে প্রচন্ড পরিমানে মারা হলো তাকে। কিছু সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, দুই মাহুদ লাঠি দিয়ে সমানে মেরে চলেছে ওই হস্তিনী কে। হাতিটিকে বেঁধে রাখার ফলে সে সেখান থেকে নড়তে পারছে না। তার বুক ফাটা চিৎকার শুনে যেনো যে কোন মানুষ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে। তবে এক্ষেত্রে একেবারেই তা হয়নি।

শোনা গেছে যে ওই দুই মহুতের নাম হল ভিনিল কুমার এবং তার সহকারী শিবপ্রসাদ। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে যাবার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে একাধিক পশুপ্রেমী সংগঠন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় নিয়ে এসে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের।মন্দির কর্তৃপক্ষ তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দিয়েছে।