গালওয়ানে সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্ক তলানিতে, জানালেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর

লাদাখে ভারত-চীন সীমান্ত সংঘর্ষের প্রভাব সরাসরি উভয় প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর করছে বলেই দাবি করলেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শুক্রবার এশিয়া সোসাইটির আয়োজিত একটি ভারচুয়াল সভায় অংশগ্রহণ করে একথা স্বীকার করে নিলেন তিনি। তার বক্তব্য অনুসারে, লাদাখ সীমান্তে সেনা মৃত্যুর ঘটনার গভীর প্রভাব পড়ছে উভয় রাষ্ট্রের সম্পর্কে।

এদিনের সভায় অংশগ্রহণ করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কেভিন রুডের সঙ্গে যৌথভাবে লেখা তার বই ‘দ্য ইন্ডিয়ান ওয়ে: স্ট্র্যাটেজিস ফর অ্যান আনসার্টেন ওয়ার্ল্ড’ এর বিষয়বস্তু নিয়ে প্রায় এক ঘন্টা ধরে আলোচনা করেন ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী। সেই সময়ে কথাপ্রসঙ্গে ভারত-চীন সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। উল্লেখ্য, সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য গত মাসে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন এস জয়শঙ্কর।

সেদিনের টানা আড়াই ঘণ্টা বৈঠকের পরেওভারত-চীন সীমান্ত সমস্যা সম্পর্কে কোনো সমাধান সূত্র পৌঁছতে পারেননি উভয় রাষ্ট্রের বিদেশ মন্ত্রক। এস জয়শঙ্করের বক্তব্য অনুসারে, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ১৯৯৩ সালে উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে বর্তমানে ভারতীয় ভূখণ্ড দখলে সচেষ্ট হয়েছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি।

উল্লেখ্য, চিনা আগ্রাসনে বাধা দিতে গিয়ে গত জুন মাসে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান চিনা সেনাবাহিনীর হাতে প্রাণ দেন। এর পরেই চীনের বিরুদ্ধে সরব হয় ভারত। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মন্তব্য, ১৯৭৫ সালের পর এই প্রথম সীমান্তে এইভাবে সেনা মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো। চীনের তরফে কতজন সেনা মারা গেছেন, তার কোনো হিসেব নেই। তবে সীমান্ত রক্ষার্থে ভারতীয় সেনার শহীদ হওয়ার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই উভয় রাষ্ট্রের সম্পর্কের মধ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।