চিনকে কোণঠাসা করার চেষ্টা! সমুদ্রে ফাইটার জেট, রণতরী নিয়ে বিরাট নৌমহড়ার প্রস্তুতি ভারতের

ভারতীয় সীমান্তে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র চীন এবং পাকিস্তানের সাথের যেকোনো মুহূর্তেই সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে সমুদ্র এবং আকাশপথে টপেক্স মহড়ায় অংশগ্রহণ করতে চলেছে ভারত। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে এই বছর থেকেই। চলতি বছরে জাপান, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার সাথে চার শক্তি কোয়াডের নৌসেনা মহড়ায় অংশগ্রহণ করতে চলেছে ভারত। সীমান্তে আগ্রাসী চীনকে সতর্ক করতেই মূলত এই মহড়ায় অংশগ্রহণ করবে ভারত।

ট্রপেক্স নৌ-মহড়ায় অংশ নেওয়ার জন্য চলতি বছরের অক্টোবর মাসেই এক মাসের জন্য যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সহযোগে প্রস্তুতি শুরু করবে ভারতীয় নৌসেনার ওয়েস্টার্ন কম্যান্ড ডিফেন্স অব গুজরাত এবং ইস্টার্ন ন্যাভ্যাল কম্যান্ড অপারেশনাল রেডিনেস এক্সারসাইজ। ভারতীয় নৌসেনা বিভাগের চিফ অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ জানালেন, গত বছর জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মাসেও ট্রপেক্স নৌ-মহড়ার আয়োজন করা হয়েছিল।

সেবারের মহড়ায় অংশগ্রহণ করেছিল ভারতের ৬০টি নৌসেনার জাহাজ, ১২টি কোস্ট গার্ড শিপ ও ৬০ টি এয়ারক্রাফ্ট। সেই সময় সীমান্তে পুলওয়ামা হামলা ও তার প্রত্যাঘাতে বালাকোট স্ট্রাইক চলছিল। সেই সময়ে বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্য ও পরমাণু শক্তিবাহিত সাবমেরিন আরব সাগরে মোতায়েন করে রেখেছিল ভারতীয় নৌসেনা। ভারতীয় নৌসেনার বিভাগের রণ সজ্জা দেখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল পাকিস্তানী হামলাকারীরা।

ট্রপেক্স নৌ-মহড়ার বেশ কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। এই মহড়াতে যেমন একদিকে সমুদ্রে রণতরী সাজানো হয় এবং নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিনের শক্তি প্রদর্শন করা হয়, তেমন অপরদিকে আকাশপথেও বায়ু সেনা এবং নৌসেনার এয়ারক্রাফট তাদের শক্তি প্রদর্শন করে। অর্থাৎ এই মহড়ায় অংশ গ্রহণ কারী রাষ্ট্র জলপথে এবং আকাশপথে তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই মহড়ায় অংশগ্রহণ করে কার্যত চীনের প্রতি ভারতীয় সেনা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেবে।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন