অবিশ্বাস্য, ১৬ বছর বয়সেই প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন এই কিশোরীর, হতবাক গোটা রাজনৈতিক মহল

অনিল কাপুরের নায়ক এর কথা মনে পড়ে। ভাবলেই যেন কেমন মনের ভেতর উত্তেজনা জেগে ওঠে না? একদিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী, কে না হতে চায়। তবে রিয়েল লাইফ আর রিয়েল লাইফ একেবারেই অন্যরকম হয়। সিনেমার পর্দায় যা দেখায় তা তো কখনো বাস্তবে হতে পারে না।কিন্তু এমন ধারণা কে পিছনে ফেলে দিয়ে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী দেশের সমস্ত শাসনভার একদিনের জন্য ছেড়ে দিলেন কিন্তু বুদ্ধিমান যুবতীর উপর। আর যাকে ছেড়ে দিলেন, সেই ১৬ বছরের মেয়ে টি, প্রধানমন্ত্রীর পদে বসতে পারে যত না খুশি হয়েছে, সবথেকে বেশি খুশি হয়েছে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পেরে।

ফিনল্যান্ডের এই একদিনের প্রধানমন্ত্রীর নাম আভা মূর্ত।আধুনিক সমাজে প্রত্যেক মহিলারা ঘর সামলানোর পাশাপাশি নিজেদের প্রতিবার তুলে ধরার চেষ্টা করছেন সকলের সামনে। একসঙ্গে সামলাচ্ছেন ঘর এবং বার।পুরুষদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনেক কম বয়স থেকেই নিজের লক্ষ্যে পৌঁছে যাবার চেষ্টা করছেন সকলে। তাই একজন কিশোরীকে একদিনের জন্য নিজের চেয়ার ছেড়ে দিলেন ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর নিজের বয়স কিন্তু মাত্র ৩৪ বছর। গত বছর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। শুধুমাত্র সানাই নয়, তাদের জোট সরকারের প্রত্যেক শরিক দলের কান্ডারী একজন কৃতি মহিলা। অর্থাৎ এই রকম প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা-চিন্তাও যে একটু অন্যরকম হবে তা বলাই বাহুল্য।

আর আম্মুর চোখে ফিনল্যান্ড বাসি চেনেন পরিবেশ কর্মী হিসেবে। তিনি পরিবেশ নিয়ে যথেষ্ট সচেতন। একজন ১৬ বছরের যুবতী হয়ে ওর কাজকর্মে তিনি বেশ প্রভাব ফেলেছে সাধারণ মানুষের ওপর।গত ৪ বছর ধরে ফিনল্যান্ডে প্রত্যেক বছর একদিনের জন্য এভাবে প্রধানমন্ত্রীর সিটে বসার সুযোগ পায় সেই দেশের কিশোরীরা। নিজে নিজে প্রতিবাদ তারা রীতিমতো প্রতিযোগিতা করে একদিনের জন্য ওই পদ পেতে হয়। চলতি বছরেই সুযোগ পেয়েছে আভা মূর্ত। তিনি একদিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেছেন,”বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেবার আগে মাথায় রাখতে হবে যে প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও তারা ছেলেদের সমকক্ষ হতে পারে”। সেই সঙ্গে এই পদের গুরুদায়িত্ব আভা অনেকেই বুঝে গেছে একদিনেই।তার কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে প্রশংসায় ভরিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সানা মারি নিজেও।