“কাজ না হলে ভোট নয়” অনুব্রত মন্ডলের মুখের উপর জবাব দিলো দলেরই মহিলা কর্মীরা

“উন্নয়নের কাজ না হলে, ভোট পাবেন না”, সম্প্রতি বিধানসভা ভোটের আগে বীরভূমে আয়োজিত কর্মী সভার একটি অনুষ্ঠানে এমনই নজিরবিহীন এবং সপাট জবাব পেলেন স্থানীয় তৃণমূল সাংসদ অনুব্রত মণ্ডল। সিউড়ির জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে এদিন স্থানীয় এলাকার মহিলা কর্মীরা সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, উন্নয়নমূলক বহু পরিষেবা থেকে তারা বঞ্চিত। অতএব, কাজ না করলে তারা তৃণমূলে আর ভোট দেবেন না। উল্লেখ্য, ২০২১এর বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভোট প্রচার চলছে পুরোদমে। পিছিয়ে নেই তৃণমূলও। বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমবাসীদের ভোট করায়ত্ত করতে ইতিমধ্যেই জেলাজুড়ে দফায় দফায় বিভিন্ন কর্মীসভার বৈঠকের আয়োজন করেছেন। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের কর্মী সভা চলছে।

সেইমতো শুক্রবারেও সিউড়ির এক নম্বর ব্লকের আলুন্দা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাকুরিয়া গ্রামেও তৃণমূলের কর্মী সভার আয়োজন করেন অনুব্রত মণ্ডল। সভা চলাকালীন তিনি যখন মহিলা কর্মীদের কাছে তাদের সুবিধা-অসুবিধা কথা জানতে চান, তখন প্রকাশ্যেই মহিলারা জানিয়ে দেন তৃণমূল রাজত্বে উন্নয়নের বাতাস ওই এলাকায় পৌঁছয়নি। যেমন, জেলা সভাপতি যখন জানতে চান ওই এলাকায় জলের ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা তখন মহিলাদের স্পষ্ট জবাব, “কল আছে, তবে সেই কলে জল আসে না”।

আবার, আবাস যোজনা নিয়েও এদিন জেলা সভাপতির কাছে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন মহিলারা। তাদের দাবি, ওই এলাকার বেশিরভাগ বাসিন্দাই আবাস যোজনার আওতায় বাড়ি পাননি। উল্লেখ্য, এর আগে সিউড়ির ২ নম্বর ব্লকের দমদমা গ্রাম পঞ্চায়েতের মাজিগ্রামের বেহাল রাস্তা নিয়ে সরব হয়েছিলেন স্থানীয় বুথ সভাপতি গণেশ রায়। বুথ সভাপতি এহেন প্রকাশ্য বিরোধিতায় বেজায় ক্ষুব্ধ জেলা সভাপতি তৎক্ষণাৎ তাকে সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করার নির্দেশ দেন। তবে, পাকুরিয়া গ্রামের ক্ষেত্রে মাথা ঠান্ডা রেখে কর্মীদের অভাব-অভিযোগ শুনেছেন অনুব্রত বাবু। পাশাপাশি শীঘ্রই সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।