দুই সন্তানকেই বলি মায়ের, দাবি করলেন তিনিই শিবের রূপ, ক’রো’নার জন্ম তার শরীর থেকেই!

কুসংস্কার যে কতখানি মারাত্মক হতে পারে, আমরা সকলেই জানি। এই কুসংস্কারের বশবর্তি হয়ে বহু মানুষের জীবন শেষ হয়ে গেছে। শুধুমাত্র কুসংস্কারাচ্ছন্ন হবার ফলে মানুষের জীবন থেকে হারিয়ে গেছে বহু মানুষ। তবে আজ এমন একটি ঘটনার কথা বলা হবে,শুনলে সকলেই একবার হলেও আতঙ্কিত হয়ে উঠবে। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের চিতরে। সেখানে নিজের হাতে দুই মেয়েকে বলি দিয়ে দিলো তার বাবা-মা। কেন কি কারন, এই বিষয়ে তদন্ত করতে নেমে সামনে এলো আরেকটি বড় ঘটনা।গ্রেফতার করার পর পদ্মজা নামক ওই মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তার করণা পরীক্ষার কথা বলা হয়।

কিন্তু কিছুতেই করোনা পরীক্ষা করতে রাজি হন না পদ্মজা। বারবার বলতে থাকে, তিনি স্বয়ং শিব। তিনি করোনার জন্ম দিয়েছেন। পদ্মজা আরো বলে যে, আমার গলায় হলাহল রয়েছে। তোর না পরীক্ষা করার দরকার নেই আমার।স্বাভাবিকভাবেই এই কথায় কিছুটা হলেও ঘাবড়ে যান স্বাস্থ্যকর্মীরা। অনেক বুঝিয়ে শেষমেষ করণা পরীক্ষার জন্য রাজি করানো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এখনো সেই রিপোর্ট হাতে আসেনি।

এবার শোনা যাক আসল ঘটনাটি। গত ২৪ শে জানুয়ারি রাতে চিতরের মদন পল্লী বাসিন্দা পদ্মজা এবং তার স্বামী পুরুষোত্তম ডাম্বেলের আঘাতে দুই সন্তানকে হত্যা করে দেয়। তার দুই মেয়ে আলেখ্য এবং সাই দিব্যা যথাক্রমে ২৭ বছর এবং ২২ বছরের তরুণী। স্থানীয় সূত্রে পুলিশ জানতে পারে যে,লকডাউনে এই দম্পতি বহুবার অসংলগ্ন ব্যবহার করেছে সকলের সঙ্গে। পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রী বারবার তারা বলেন যে, কলিযুগের শেষ এবং সত্য যুগের শুরু হবে এবার। তার সন্তানেরা খুব শীঘ্রই জীবিত হয়ে উঠবেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অভিযুক্ত স্বামী এবং স্ত্রী কিন্তু দু’জনেই খুবই উচ্চ শিক্ষিত।পদ্মজা একজন আইআইটি কোচিং ইনস্টিটিউট এর অংক শিক্ষক। অন্যদিকে পুরুষোত্তম সরকারি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল। এত শিক্ষিত হয়েও কি করে তাহলে এইভাবে তারা নিজের সন্তানকে হত্যা করলেন তা নিয়ে বেশ আশ্চর্য হয়েছেন সকলে। তারা দুজনেই করোনার প্রাক্কাল থেকে সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং মনে প্রাণে তারা বিশ্বাস করতেন এই ভাবেই তাদের সন্তানদের পুনর্জনম হবে।