পেটে খি’দে! কার্পেট-টিভি-ঘরের জিনিসপত্র বি’ক্রি করতে কাবুলের রাস্তায় ভি’ড় জনতাদের

তালিবানি জঙ্গি শাসনকালে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। তালিবান জঙ্গী রাজত্বকালে আফগানিস্তানের মানুষেরা কার্যত না খেয়ে মরছেন। সেখানকার পরিস্থিতি ঠিক কতটা ভয়াবহ উঠেছে তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলছে সেখানকার বাজার দোকানগুলিতে। পরিস্থিতি এমনই ভয়াবহ যে আফগানিস্তানের বাসিন্দারা তাদের ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করে খাবার কেনার টাকা সংগ্রহ করছেন।

জলের দরে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে দামি দামি জিনিসপত্র। তালিবান শাসনকালে আফগানিস্তানের সরকারি-বেসরকারি ক্ষেত্রের কর্মচারীরা সকলেই প্রায় বেকার। দু’বেলা দু’মুঠো অন্নের যোগান নেই তাদের। সমস্ত সরকারি বেসরকারি সংস্থা একপ্রকার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই তারা ঘরের ঘটিবাটি বেচে যতটুকু সম্ভব অর্থ উপার্জন করার প্রচেষ্টায় আছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই ভয়াবহ চিত্র।

প্রায় ২০০০০ টাকার রেফ্রিজারেটর সেখানে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫ হাজার টাকায়। আফগানিস্তানের ফ্লি মার্কেটে এক লাখ টাকা দামের সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে মাত্র কুড়ি হাজার টাকায়! পরিস্থিতি এমন আচমকা বদলে যাওয়াতে রীতিমতো চোখে অন্ধকার দেখছেন আফগানিস্তানের বাসিন্দারা। ছোট ছোট শিশুদের মুখে অন্ন তুলে দিতে অনেক পরিবার এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

গতমাসে কাবুলের দখল নিয়েছে জঙ্গিরা। তারপর থেকেই কার্যত আফগানিস্থানে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। জঙ্গিরা একের পর এক প্রদেশ দখল করে নিচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সরকারী এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলি। এমতাবস্থায় প্রায় কয়েক লক্ষ কর্মচারী বেতন পাননি। সংসার চালাতে তাই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এবার সেই দেশে খাদ্য সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদি সেই আশঙ্কা সত্যি হয় তাহলে ১৪ লক্ষ মানুষ মুহূর্তের মধ্যেই অনাহারের কবলে পড়বেন।