কতটা অসহায়, ঋণ শোধ করতে বাধ্য হয়ে একদিনের সন্তানকে বিক্রি করলেন মা

মায়ের কাছে সবথেকে বড় পাওনা হল তার সন্তান। এতে সন্তানের জন্য তার মা সমস্ত কষ্ট সহ্য করতে রাজি থাকেন। তবে এমন কিছু পরিস্থিতি জীবনে আসে, যার ফলে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত আমাদের নিয়ে নিতে হয়। এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হাসিনা বেগম। তিনি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের টেপারহাট গ্রামের জোকতার আলীর স্ত্রী।

প্রায় কুড়ি বছর আগে তাদের বিবাহ হয়। হাসিনা তার স্বামী দ্বিতীয় স্ত্রী। বিয়ের পর কিছুদিন স্বামীর সঙ্গে থাকলেও পরবর্তীকালে তার ঠাঁই হয় তার নিজের বাবার বাড়িতে। সংসারের খরচ বহন করতে না পারলেও স্বামীর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক রেখেছিলেন হাসিনা। এরই মাঝে তার সংসারের দুই ছেলে এবং এক মেয়ের জন্ম হয়। সম্প্রতি বড় মেয়ে রোসনার বিয়ে দেন হাসিনা।

কৃষি শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন হাসিনা বেগম। বর্তমান পরিস্থিতিতে মাঠে কাজ না থাকায় বাজারে হাসিনা বেগম এরর ইন হয়ে যায় প্রায় ১০ হাজার টাকা।এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার সকালে হাসিনা বেগম একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। স্বাভাবিকভাবেই অভাবের সংসারে সন্তানকে নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান তার মা। তবে তার ভাই নিঃসন্তান কেরামত আলী এই অবস্থায় বোনের সন্তানকে নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করে।

কিন্তু প্রতিবেশী অধীর চন্দ্র হাসিনাকে রাজারহাট এলাকার এক দম্পতিকে সন্তানটিকে দিয়ে দিতে বলেন। এর প্রতিবাদ জানায় হাসিনা বেগম এবং তার বড় ছেলে হাসান।কিন্তু নবজাতকের বাবা ১০ হাজার টাকার বিনিময় জোর করে সন্তানকে তুলে দেন রাজারহাটের দম্পতির কাছে।

হাসিনা বেগম সন্তান বিক্রির টাকা ঋণের টাকা শোধ করলেও নাড়ি ছেড়া ধন হারিয়ে একেবারেই ভেঙে পড়েন। এদিকে ছোট ভাইকে হারিয়ে বাবা মায়ের ওপর অভিমান করে ঘর ছাড়ে বড় ভাই হাসান।এই প্রসঙ্গে হাসিনার বড় ছেলে জানায়, বাইকে বিক্রি করতে নিষেধ করায় বাবা আমাকে খুব মারপিট করে। এখন মা শুধু কান্নাকাটি করছে।ওরা বলেছে কুড়ি হাজার টাকা পেলেই ভাইকে ফেরত দিয়ে দেবে। কিন্তু আমার কাছে এখনো অত টাকা নেই।

এদিকে হাসিনার ভাই কেরামত আলী জানান, বিয়ের পর ১০ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও আমাদের ঘরে কোন সন্তান ছিল না। তার ইচ্ছা ছিল বনে সন্তানকে নেব। কিন্তু আমার ভগ্নিপতি জোর করে শিশুটিকে অন্যের হাতে তুলে দিল। হাসিনা বেগম বলেন, আমরা গরীব মানুষ খাবার খেতে পাই না। প্রতিবেশী যার হাতে তুলে দিয়েছে, তারা খুব ভালোভাবে তাকে দেখবে। তারা আমাকে কুড়ি হাজার টাকা দিয়েছে। ওই টাকা দিয়ে আমি ঋণের টাকা শোধ করেছি।