সম’কামিতা অ’প’রা’ধ নয়! হাইকোর্টের রা’য়ে বাঁ’চা’র স্বা’দ পে’লে’ন বহ’রম’পুরের দু’ই সম’কামী ত’রু’ণী

সম'কামিতা অ'প'রা'ধ নয়! হাইকোর্টের রা'য়ে বাঁ'চা'র স্বা'দ পে'লে'ন বহ'রম'পুরের দু'ই সম'কামী ত'রু'ণী

বর্তমান সমাজ অনেকটাই এগিয়ে গেছে। এগিয়ে গেছে মানুষের চিন্তাধারার দৃষ্টিভঙ্গি। কিন্তু কোথাও না কোথাও আজও আমরা পিছিয়ে রয়েছি কিছু কিছু দিক দিয়ে। সমকামিতা আমাদের ভারতবর্ষে আইনি স্বীকৃতি পেলেও এখনো পর্যন্ত সমাজে সেইভাবে সম্মান পায়নি এই সমকামিতা। আজও কোনো সমকামী পুরুষ অথবা মহিলাকে দেখলে আমরা বাঁকা চোখে তাকিয়ে থাকি। তেমনি একটি ঘটনা ঘটল মুর্শিদাবাদে।

পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও জীবনের বাকি চলার পথ টুকু একসাথে কাটানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন তারা। কিন্তু বাড়ির লোক কোনোভাবেই তা মেনে নিতে চায়নি। ফলে চলতে থাকে অত্যাচার। পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও কোনও কাজ হয়নি। অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে মুর্শিদাবাদের ওই তরুণ সমকামীদের।

সোমবার ওই তরুণীদের আদালত রায় দিয়ে নির্দেশ দেন, একসাথে থাকার যে সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছেন তাতে কোনো বাধা দেওয়ার অধিকার নেই কারোর। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের এই দুই সমকামী তরুণী একে অপরের প্রেমে পড়েছিলেন বহুদিন আগেই। ভালোবেসে তারা একসাথে থাকতে চেয়েছিলেন এক ছাদের তলায়। কিন্তু পরিবার থেকে কোনোভাবেই তা মেনে নেওয়া হয়নি। বহরমপুর থানাতে পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার পরেও সেই ভাবে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি পুলিশ। উল্টে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই দুই তরুনী সমকামী।

অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের সরকারি আইনজীবী অঙ্কন বিশ্বাস তাদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা করেন তারা। সোমবার মামলাটি বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বেঞ্চে উঠার পর বিচারপতি মন্তব্য করেন, আইন ওই সমকামীদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পরিপন্থী কখনো হতে পারে না। আইন তাদের জীবনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। তাদের সম্পর্ক নিয়ে কোনো রকম বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না পরিবারের লোকেরা।

আদালতের এই রায়ের ফলে আরো একবার নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন ঘর বাঁধার ওই দুই তরুণী। এই বিষয়ে আইনজীবী অংকন বলেন, সমগোত্রীয় হয়েও একে অপরকে ভালোবেসে ওরা যে অন্যায় করেনি, আদালতের নির্দেশ থেকে তা স্পষ্ট হয়ে যায় আরো একবার। আশা করি সমাজে এই নির্দেশ থেকে একটি শিক্ষা পাবে। এই রায়ে আমরা সবাই খুব খুশি।