এই সেই নটবরলাল, যিনি তাজমহলকে তিনবার বিক্রি করে দিয়েছিলেন, জানুন তাঁর কাহিনী

অভিষেক বচ্চন এবং রানী মুখার্জি অভিনীত বান্টি এবং বাবলি সিনেমাটির কথা নিশ্চয়ই মনে আছে, কিভাবে লোককে বোকা বানিয়ে একের পর এক সৌধ বিক্রি করে দিত তারা, সিনেমাটি দেখতে বেশ মজার ছিল। কিন্তু এমন মানুষ বর্তমানে রয়েছে। অতীতে নটোবর লাল নামটি পুরো ভারতবর্ষকে কে রেখেছিলো নিজের বুদ্ধি এবং কুটিলতা দিয়ে। তা চুরি করার ক্ষমতা ছিল নজিরবিহীন।তারা এতটাই বুদ্ধি ছিল যে তাজমহলের মত একটি স্থাপত্য অবলীলায় তিন বার বিক্রি করে দিয়েছিলেন এই ব্যক্তি। কথা বলার ধরণ এবং লোক ঠকানোর বুদ্ধিতে তার জুড়ি মেলা ভার। অনেকবার তিনি ধরা পড়লে জেল থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। ভারতবর্ষের কোন জেল তাকে ধরে রাখতে পারেনি। জানতে ইচ্ছা করছে, কে এই ব্যক্তি যে অবলীলায় তাজমহলের মত স্থাপত্য কে বিক্রি করে দিয়েছিল।

যেসকল দম্পতি ভারতবর্ষে এসে দিল্লিতে তাজমহল দর্শন করতে আসতেন, তাদেরকে কথার মারপ্যাঁচে ফেলে তিনি বিক্রি করে দিয়েছিলেন পুরো তাজমহল টাই। নিজেকে ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিতে নটোবর। পর্যটক, বিশেষত বিদেশিদের তিনি বলতেন যে, ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ থাকার সালে ভারত সরকার তাদের মত কয়েকজন এর উপরে তাজমহল বিক্রি করে দেবার ভার দিয়েছেন। এইভাবে তিনবার তিনি তাজমহল বিক্রি করে দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষকে। ক্রেতাদের বোকামি নয়, নটোবর লাল এর কথার কারসাজি এবং বুদ্ধিদীপ্ত তার কাছে হার মেনে যেত সকলে। শুধু তাজমহল নয়, লালকেল্লা, রাষ্ট্রপতি ভবন, পুর সংসদ ভবন সহ আরো অনেক কিছু বিক্রি করে দিয়েছিলেন চড়া দামে।

এই বিখ্যাত নটোবর লাল এর জন্ম হয়েছিল বিহারের সিওয়ান জেলার বাংরা গ্রামে। তার আসল নাম ছিল মিথিলেশ কুমার শ্রীবাস্তব। ছোটবেলা থেকেই তিনি অন্যের সই জাল করতে পারতেন একেবারে নিখুঁত ভাবে।গ্রামের একজন বৃদ্ধ তাকে একবার শহরের ব্যাংক থেকে চেকে সই করে টাকা উঠানোর জন্য পাঠিয়ে ছিলেন। মিথিলেশ তখন সেই চেক বইয়ের কয়েকটা পাতা চুরি করে নেয়। এরপর ব্যাংকে সেই বৃদ্ধের সই নকল করে ১০০০ টাকা তোলে। সেই থেকেই শুরু হয় তার অপরাধ জীবনের সূচনা।

এরপর বহু প্রতারণার কেশ এবং চুরির মামলায় জড়িয়ে যাবার পর তার পেছনে আটটি রাজ্যের বিশাল পুলিশবাহিনী লেগে গিয়েছিল। বিভিন্ন মামলায় মোট সাজার মেয়াদ ১১৩ বছর। কিন্তু ভারতবর্ষের কোন জেলাকে আটকে রাখতে পারেনি. বহুবার পুলিশ কি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জেল ভেঙ্গে বেরিয়ে যায় নটোবর লাল। তবে সারা জীবনে মাত্র কুড়ি বছরের মতো তাকে জেল খাটতে হয়েছিল।বয়স বাড়ার ফলে অনেকে ভেবেছিল নটোবর লাল এর বুদ্ধি তে জং ধরে গেছে। কিন্তু তাদের সকলকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়ে ৮৪ বছর বয়সে, অসুস্থতার ভান করে হাসপাতালে থাকার অনুমতি যোগাড় করে ফেলে নটোবর লাল। এরপর হুইল চেয়ারে পুলিশি পাহারায় অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সাইন্সে যাবার পথে হঠাৎ করে ভোজবাজির মতো মিলিয়ে যায় নটোবর লাল। তারপর থেকে তাকে আর কখনো দেখা যায়নি। পরিবারের দাবি তার মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু পুলিশ সে কথা বিশ্বাস করতে চাইনি। তবে তাকে কখনোই দেখা যায়নি।