সিঁদুর-শাঁখা না পড়লে স্বামী করতে পারেন বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা, অনুমতি দিলো গুয়াহাটি আদালত

“হিন্দু শাস্ত্রে বিবাহিত মহিলাদের শাঁখা ও সিঁদুর পড়া বাধ্যতামূলক‌।কোন মহিলা যদি এই নিয়ম মানতে নারাজ হন তার মানে তিনি বিবাহিত সম্পর্ককেই অস্বীকার করছেন”, হাইকোর্টে বসে এমনই বিতর্কমূলক মন্তব্য করলেন এক বিচারপতি। শুধু তাই নয়, এই যুক্তি দেখিয়ে এক দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদও সম্ভব হয়েছে।

“স্ত্রী শাঁখা ও সিঁদুর পরতে চান না”, এই অভিযোগের ভিত্তিতে অসমের এক ব্যক্তি প্রথমে পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু “স্ত্রী তো তার প্রতি কোন অত্যাচার করেননি”, এই যুক্তি দেখিয়ে সেই মামলা খারিজ হয়ে যায়। এরপর সেই ব্যক্তি পুনরায় ডিভোর্স চেয়ে আবেদন করেন হাইকোর্টে।

মহিলার স্বামী জানিয়েছেন, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন সেই দম্পতি। কিন্তু একমাস পর থেকেই আলাদা থাকার জন্য জোরাজুরি করতে থাকেন স্ত্রী। মহিলাটি সন্তান ধারণে অক্ষম হওয়াই তাদের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়তে থাকে। এরপর তিনি শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং ৪৯৮ ধারায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে যৌতুক ও হয়রানির মামলা করেন। তবে তার আবেদন তখন খারিজ করে দিয়েছিল আদালত।

এরপরই স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিভোর্স চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন স্বামী। সেই মামলার ভিত্তিতে এই বিতর্কমূলক রায় দান করে হাইকোর্ট। আদালতের বক্তব্য, ওই মহিলা শাঁখা সিঁদুর পরতে রাজি নন মানে উনি নিজেকে বিবাহিত মনে করেন না। এক্ষেত্রে স্বামীকে বিবাহিত সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য জোর করা মানে পরোক্ষে তাকে অপমান করা।