১৫-তেই সন্তান ধারণে সক্ষম মেয়েরা, বিয়ের বয়স বাড়ানোর কি প্রয়োজন? তির্যক মন্তব্য কংগ্রেস নেতার

“১৫ বছর বয়সেই মেয়েরা সন্তান ধারণের জন্য সক্ষম হয়ে যান! তাহলে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর থেকে বাড়ানোর কি প্রয়োজনীয়তা আছে?”, এমনই বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেছেন মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেতা সজ্জন সিং ভর্মা। কংগ্রেস নেতার যুক্তি অনুসারে, মহিলাদের বিয়ের বয়স বাড়ানোর কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। বরং তাদের ” ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরপরই হাসিমুখে শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া উচিত!”, এমনটাই মনে করেন এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

কেন্দ্রীয় সরকার যখন মহিলাদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর থেকে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, মধ্য প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান যখন নিজে সেই দাবি তুলছেন, তখনই বিরোধিতা করতে গিয়ে একেবারে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেছেন সজ্জন সিং ভার্মা। তার এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের দাবি, এই মন্তব্যের জন্য অবিলম্বে তার ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সম্প্রতি মহিলাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ সম্পর্কে জন সচেতনতা তৈরি করার উদ্দেশ্যে ১৪ দিন ব্যাপী “সম্মান” নামক একটি অনুষ্ঠানের সূচনা করেছেন। এই অনুষ্ঠান মঞ্চেই মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর থেকে বাড়িয়ে ২১ বছর করার দাবি তুলেছেন। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির বিরোধিতা করেন সজ্জন সিং ভর্মা এবং তা করতে গিয়েই কার্যত বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে চিকিৎসকদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন তিনি। তার যুক্তি হলো, চিকিৎসকেরাই বলছেন ১৫ বছর বয়সেই একটি মেয়ে সন্তান উৎপাদনে সক্ষম হয়। অতএব বিবাহ ক্ষেত্রে মহিলাদের ১৮ বছরের বেশি আর অপেক্ষা করা যুক্তিযুক্ত নয় বলেই মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস শিবির অবশ্য সাফাই দিয়েছে, তার মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। সজ্জন সিং ভর্মা আসলে মুখ্যমন্ত্রীর দাবির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তবে সমালোচকরা অবশ্য এতে ভুলছেন না। তাদের দাবি, বিতর্কিত মন্তব্য করার দরুন সজ্জন সিং ভর্মাকে ক্ষমা চাইতেই হবে।