আরো কমতে পারে জিডিপি, রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখে দিলো রিজার্ভ ব্যাংক, সতর্ক করলেন গভর্নর

বিশ্বে করোনা মহামারী জেরে সংক্রমিতের হার যেমন দিন প্রতিদিন বাড়ছে, তেমনি অর্থনৈতিক গ্রাফ দিন প্রতিদিন নিচে নামছে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও খুব একটা সুবিধার নয়। একদিকে করোনা মহামারীর কারণে লকডাউনের জেরে দেশীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত। যার ফলে বিগত কয়েক মাসে দেশবাসীকে অর্থনৈতিক দুর্দশার শিকার হতে হয়েছে। তবে চলতি বছরের শেষের দিকেই অবস্থার উন্নতি হবে। এমনটাই জানালেন আরবিআই এর গভর্নর।

সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার গভর্নর শক্তিকান্ত দাস জানালেন, চলতি অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকেই দেশের অর্থনৈতিক মন্দার ভাব অনেকটাই কেটে যাবে। উল্লেখ্য, এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক এবং বিশ্বব্যাংকের তরফ থেকে আগেই সতর্ক করে জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি প্রায় ৯ শতাংশ কমে যাবে। এ বিষয়ে আর বি আই এর গভর্নর এর বক্তব্য, তারা দেশীয় অর্থনীতির উপর সম্পূর্ণ নজর রাখছেন এবং প্রয়োজন মতো সরকারকে তা জানাচ্ছেন।

অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকেই দেশের জিডিপি প্রায় ২৩.৯ শতাংশ কমে গিয়েছে। তবে আসন্ন জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন আর বি আই এর গভর্নর। পাশাপাশি শুক্রবার, রিজার্ভ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি কমিটির বৈঠকে গভর্নর জানালেন, মহামারীর মধ্যে অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখা হলো।

উল্লেখ্য, আগের রেপো রেট, অর্থাৎ রিজার্ভ ব্যাংকের তরফ থেকে যে সুদের হারে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলিকে ঋণ দেওয়া হয় তার হার ছিল চার শতাংশ। এ প্রসঙ্গে এমকে হেলথ ম্যানেজমেন্ট প্রধান ডক্টর জোসেফ থমাসের বক্তব্য, আর বি আই বর্তমানে রিপোর্ট অপরিবর্তিত রাখার পাশাপাশি পলিসির অবস্থান স্থিতিশীল রাখছে।বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে আর বি আই। তিনি আরো জানালেন, ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বাড়তে পারে। ফলে ভবিষ্যতে রেপো রেট কমানোর সম্ভাবনা অত্যন্ত কম বলেই জানিয়েছেন তিনি।