সন্ধি পুজো থেকে নবমীর শুরু, সেখান থেকে দশমীর বিসর্জন, জানুন শেষ দুদিনের দুর্গাপুজোর বিশেষ গুরুত্ব

আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরই হতে চলেছেন মা দুর্গার বোধন। তবে ষষ্ঠ থেকে দশম এর মধ্যে দুর্গাপুজোর শেষ দুই দিন অর্থাৎ নবমি এবং দশমী তিথি হয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সন্ধি পূজার মধ্য দিয়ে অষ্টমী তিথি অবসান হয়ে শুরু হয় নবমী তিথির পুজো। অষ্টমী এবং নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে এই পুজো করা হয় বলে একে বলা হয় সন্ধিপুজো। সন্ধির অপর নাম মিলন। উপাসনার মধ্য দিয়ে যে মিলন স্থাপিত হয় দেবতা এবং মানুষের মধ্যে, তা বোঝাতে এই পুজো অনুষ্ঠিত করা হয়।

দূর্গা পূজার মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময় হলেই সন্ধিপুজো।অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট অর্থাৎ মোট ৪৮ মিনিট কে সন্ধি মুহূর্ত বলা হয়। এই সময় যে পুজো করা হয়, তাতে মহাফল লাভ করা যায়।এই পাঁচ দিনের মধ্যে শুধুমাত্র সন্ধিপুজোর মহা ক্ষণে দশোভূজা রুপিনি দুর্গা মাকে পুজো করা হয় মুণ্ডমালিনী চতুর্ভূজা চামুণ্ডা রূপে। যখন সম্ভব এবং নিশুম্ভের সঙ্গে দেবী দুর্গার যুদ্ধ করেছিলেন, তখন এই সন্ধিক্ষণে আবির্ভাব হয়েছিল দেবী চামুণ্ডা র। দেবী চামুন্ডা বধ করেছিলেন শুম্ভ এবং নিশুম্ভ দুই অসুর কে।

এই সন্ধিক্ষণে সমস্ত অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা করা হয়। শ্রী বিষ্ণু ক্রেতা যুগে যুগে রামচন্দ্র রুপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই সন্ধিক্ষণে।আবার রামচন্দ্রের দুর্গাপুজোয় এই সন্ধি পূজার সময় দেবী স্বয়ং আবির্ভূত হয়ে রাবণ বধের বর দিয়েছিলেন শ্রীরাম কে। ঠিক এই কারণেই দুর্গাপূজা সন্ধিপুজোর এতটা গুরুত্ব।

এই সন্ধিপুজোয় দেবী দুর্গাকে অর্পণ করা হয় একশো আটটি লাল পদ্ম।এছাড়াও ১০৮ টি প্রদীপ জ্বালানো হয় এই সন্ধি পূজার সময়। ঢাকের বাদ্যি, উলুধ্বনি, ঘন্টা, শঙ্খধ্বনি বাজিয়ে অনুষ্ঠিত করা হয় এই সময়টি। মন্ত্রোচ্চারণ এবং প্রদীপের আলোতে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে দেবী দুর্গার মুখ।নবাবের রাত থেকেই শুরু হয়ে যায় দেবী দুর্গার বরণের পালা।চারিদিকে মন খারাপের মধ্যেও মনে হয় যেন আবার এক বছর পরে দেখা হবে মায়ের। বহু স্থানে নীলকন্ঠ পাখি ওড়ানো হয় সকলের চোখের আড়ালে।