লকডাউনে জোটেনি খাবার, খিদের জ্বালায় বাধ্য হয়ে গাছের পাতা খেয়ে দিন কাটালেন বৃদ্ধ

খিদের জ্বালায় বাধ্য হয়ে গাছের পাতা খেয়ে দিন কাটালেন বৃদ্ধ

আয় বন্ধ, খাবারের অভাবে ধুঁকছে দেশ। আয় বন্ধ সমস্ত স্তরের মানুষের। তাই তো দিন আনি দিন খাই মানুষগুলোর যা অবস্থা তা যেন চোখেই দেখা যায় না। যদিও রাজ্য সরকারের তরফে খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে কিন্তু তাতেও যে খাবারের অভাব ঘুচছে না তার প্রমান পাওয়া গেল। কলকাতা স্টেশনের বাইরে একটি ঝোপ থেকে কচি পাতা ছিঁড়ে খেতে দেখা গেল এক বৃদ্ধকে। দুদিন ধরে পেটে কিছু পড়েনি, তাই গাছে কচি পাতাই একমাত্র ভরসা।

লকডাউনের জেরে যেমন ভিনরাজ্যের অনেকেই অনেক জায়গায়ে আটকে পড়েছেন ঠিক তেমনি উত্তরপ্রদেশের নাকাপুরা গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ গোরক্ষ সিং। তবে ঘটনা চক্রে বিষয়টি নিজরে আসে রাজারহাটের আসাদুল আর ফারুকের। তারাই এখন গোরক্ষ সিং-এর বিষটি দেখার পর দিচ্ছে খাবার। এছাড়াও মোট ছাব্বিশ জন যারা কলকাতা স্টেশনে আটকে পড়েছেন তাঁদের প্রতিদিন খাবার দিচ্ছে। জানা গিয়েছে উত্তরপ্রদেশ থেকে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিতে এসেছিলেন গোরক্ষ সিং।

তারপর থেকে তিনি এখানেই আটকে লকডাউনের জেরে।সাত বছর আগে রাজমিস্ত্রির কাজ করেছিলেন সেই বাড়িতে, টাকা বাকি ছিল। লকডাউনের আগে ট্রেনে চড়ে কলকাতায় নামেন, বিধান নগর স্টেশন লাগোয়া ওই ব্যক্তির বাড়িতে যান। কিন্তু টাকা মেলেনি। তারপর দুদিন ধরে তিনি কলকাতা স্টেশনে জল খেয়ে আছেন। হাতে টাকা নেই তাই খাবারও নেই। তাই গাছের পাতাই খেয়ে পেট ভরালেন।

অন্যদিকে বিহারের ৭৫ বছরের সুধীর দত্ত এঁদের মধ্যে একটু স্বচ্ছল। মথুরা, বৃন্দাবনের কাজল পাল কলকাতা এসেছিলেন। সকলেই ভিন জেলা ও রাজ্য থেকে আটকে রয়েছেন কলকাতায়। যাদের খাবার দিচ্ছেন এই দুই যুবক।