জঙ্গলে কাঁকড়ার সন্ধানে গিয়েই বাঘের খপ্পরে মৎস্যজীবী, উদ্ধার ক্ষতবিক্ষত দেহ

যেকোনো উপকূলবর্তী এলাকার মানুষের জীবন হয় সংশয় পূর্ণ।কখনো বন্যা কখনোবা ঘূর্ণিঝড় কখনো বা বন্য পশুদের উৎপাতে বিপর্যস্ত হয়ে যায় তাদের জীবন। সারা বছর ধরে একের পর এক ধাক্কা সামলাতে সামলাতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তারা। কিন্তু বাসস্থান ছেড়ে কোথাও যাবার উপায় নেই। তাই প্রতিনিয়ত লড়াই করে বাঁচতে হয় তাদের। এমনই এক মৎস্যজীবীদল কাঁকড়া ধরতে গেছিলেন জঙ্গলে। কিন্তু তার মধ্যে এক মৎস্যজীবীর সেই যাত্রায় যে শেষ যাত্রা হবে তা বুঝতে পারেননি। সুন্দরবনের ব্যাঘ্র প্রকল্পের দোবাকি জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ঘটে গেল বিপদ।

এক মৎস্যজীবীকে টেনে নিয়ে গেল মানুষখেকো বাঘ।নিমেষে মাথা থেকে গলা এবং একটি পাও খেয়ে ফেলে মানুষখেকো। অন্যান্য মৎস্যজীবীরা আক্রান্ত সঙ্গীর ফেরার আশা ছেড়ে দেন। আতঙ্কে তারা ফিরে আসেন গ্রামে।পরে অবশ্য গ্রামবাসীরা একত্র হয়ে আবার জঙ্গলে যান। বাঘের সঙ্গে রীতিমতো লড়াই করে মৃতদেহ নিয়ে গ্রামে ফিরে আসেন। জানা গিয়েছে, বসিরহাটের কুমিরমারি গ্রামের মনিরুল গাজী নামে ওই মৎস্যজীবী অন্য কয়েকজনের সঙ্গে কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের জঙ্গলে গিয়েছিলেন। রায়মঙ্গল নদীর পাড়ে কুমিরমারি জঙ্গলে ওই যুবক কাঁকড়া ধরার জন্য গিয়েছিলেন সেদিন ভোরে।

কিছুক্ষণ এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানোর পর তারা যেই কাঁকড়া ধরবার জন্য আরও গভীর জঙ্গলে চলে যায়, তখন ঝোপের আড়ালে ঘাপটি মেরে বসে থাকা রয়েল বেঙ্গল টাইগার হঠাৎ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে মনিরুলের ওপর।বোঝাই যায় যে অনেকক্ষণ ধরে ঝোপের আড়াল থেকে ওই মৎস্যজীবীদের লক্ষ্য করেছিল রয়েল বেঙ্গল টাইগার।রয়েল বেঙ্গল টাইগার মনিরুল এর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে অন্য সকলে হতচকিত হয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। মনিরুল কে আক্রমণ করে তাকে মুখে তুলে মাটিতে আছাড় দেয় বাঘটি।

ওই যুবক অন্তিম সময় পর্যন্ত বাঘের সঙ্গে লড়াই করে গেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত নিজের প্রাণ বাঁচাতে অক্ষম হয়ে পড়ে সেই যুবক।এদিকে মনিরুলের সঙ্গীরা সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে পুলিশ এবং বনকর্মীদের গিয়ে গোটা ঘটনার কথা জানান। তারা সত্বর সেখানে সদলবলে পৌঁছে যান। বনের ভেতর থেকেই মনিরুল গাজীর ছিন্নভিন্ন দেহ টি উদ্ধার করা হয়।এরপরে বসিরহাট জেলা হাসপাতালের ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল মৃতদেহটি।

এদিকে মর্মান্তিক এই ঘটনার কথা শুনে স্বাভাবিকভাবেই যুবকের গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।বনদপ্তর আধিকারিকরা সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য মৎস্যজীবীদের জঙ্গলে ঢোকার বৈধ কোন অনুমতি ছিল কিনা তাও দেখবেন বলে জানিয়েছেন।গতকালও এই একই ভাবে সুন্দরবনের মরিচঝাঁপি জঙ্গলের কাছে চিলমারী খালে মাছ এবং কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ছিলেন আরেক মৎস্যজীবী। সেখানেও একজন মৎস্যজীবীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঘ।

আক্রান্ত মৎস্যজীবীর সঙ্গে থাকা বাকি মানুষেরা পাল্টা বাঘের উপর হামলা করলে শেষ পর্যন্ত শিকার ছেড়ে জঙ্গলে পালিয়ে যায় বাঘটি। তবে দুর্ভাগ্যবশত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও রাস্তাতেই তার মৃত্যু হয়ে যায়।এদিকে বর্তমান পরিস্থিতির চাপে পড়ে কাজকর্ম হারিয়ে মৎস্যজীবীরা জঙ্গলে ঢুকে কাঁকড়া সন্ধান করতে যাচ্ছেন। সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে তাদের বার বার পরতে হচ্ছে বিপদের মুখে। সুন্দরবনের অন্তর্গত গ্রামবাসীরা এই বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ আশা করছেন।