রেলের সার্ভার রুমে আগুন, থমকে রেলের অনলাইন বুকিং পরিষেবা

গতকাল বিকেলে কয়লাঘাটার রেল অফিসে বিধ্বংসী আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় প্রায় নয় জন দমকল কর্মীর। এদিকে বিধ্বংসী আগুনের জেরে রেলের সার্ভার রুমটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে রেলের টিকিট বুকিং পরিষেবা অনেকাংশে ব্যাহত হয়ে পড়েছে। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অনলাইন টিকিট বুকিং পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানা গিয়েছে।

দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যা ৬.১০ মিনিট নাগাদ আগুনের কবলে পড়ে ওই রেল অফিসটি। দমকল কর্মীদের প্রায় দশ ঘন্টার প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার ভোর ৪.১০ নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। সোমবার রাত এগারোটা নাগাদ জানা যায় আগুনে ঝলসে ইতিমধ্যেই প্রায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। পরে মৃতের সংখ্যা আরও দুই বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই দুর্ঘটনার জোরে আপাতত পূর্ব রেল, দক্ষিণ-পূর্ব রেল ও উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের টিকিট বুকিং ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছে। অবশ্য এমার্জেন্সি সার্ভিস চালু রয়েছে। এদিকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রেল মন্ত্রীকেরবিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে রেল কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণভাবে অসহযোগিতা করেছে।

তিনি আরো জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য দমকলের তরফ থেকে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে একটি মানচিত্র চাওয়া হয়েছিল। তবে সেই মানচিত্র চেয়েও পাওয়া যায়নি। রেলের তরফ থেকে কেউ ঘটনাস্থলে পৌঁছোন নি পর্যন্ত। উল্লেখ্য,ৎমুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করেছেন ভারতীয় রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।