অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি কি ধরণের চিকিৎসা, কি কি বিষয়ে রাখতে হয় খেয়াল, জেনে নিন

আমরা সকলেই জানি, নতুন বছর পড়তে না পড়তেই আমাদের শুনতে হয়েছে একটি দুঃসংবাদ।আমাদের সকলের প্রিয় ক্রিকেটার প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী বুকের ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে। পরে জানা যায় যে, তার মাইল্ড হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। করোনারি আর্টারিতে এনজিওপ্লাস্টি করতে হয়েছে তার। তবে এ কথা শোনার পর অনেকেই বলেছেন যে, এই এনজিওপ্লাস্টি আসলে কি? তাই আজকে এই প্রতিবেদনে আপনাকে বলব, এনজিওপ্লাস্টি কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা। এনজিওপ্লাস্টি হলো এমন একটি চিকিৎসা যার ফলে হৃদপিন্ডের পেশী গুলিতে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালীগুলো খুলে দেওয়া হয়। চিকিৎসা ভাষায় কই রক্তনালী গুলিকে বলা হয় করোনারি ধমনী।কখনো হার্ট অ্যাটাক হলে চিকিৎসকেরা এনজিওপ্লাস্টি র পদ্ধতি অবলম্বন করেন।

এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে চিকিৎসকের লাগে এক থেকে দেড় ঘণ্টার মত। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা এনজিওপ্লাস্টির পরে রক্তনালী গুলিকে করোনারি আর্টারি স্টেন্ট গুলিতে প্রবেশ করেন। এখানে শিরা গুলিতে রক্তপ্রবাহ পুনরুদ্ধার করার কাজ চলে।
হার্ট অ্যাটাক হবার পরে,এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে এনজিওপ্লাস্টি করে নেওয়া উচিত। মেডিকেল সাইন্স অনুযায়ী, এক ঘণ্টার মধ্যে যদি এনজিওপ্লাস্টি করা যায়, তাহলে মৃত্যুর হার অনেক কমে যায়। হৃদরোগের ঝুঁকি কম হয়। তিন ধরনের এঞ্জিওপ্লাস্টি করা যায়। বেলুন এনজিওপ্লাস্টি, লেজার এঞ্জিওপ্লাস্টি এবং অ্যাথেরেডমি এনজিওপ্লাস্টি।

উপকারিতা: সোসাইটি ফর কার্ডিওভাসকুলার এনজিওগ্রাফি অ্যান্ড ইনট্রেভলনশন সোসাইটির রিপোর্ট অনুযায়ী, এনজিওপ্লাস্টি একজন ব্যক্তির জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের পর বুকে ব্যথা হলেও এনজিওপ্লাস্টি স্বস্তি দেয়। রক্ত জমাট বাঁধা এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ও কমিয়ে দিতে পারে।

এঞ্জিওপ্লাস্টি র অসুবিধা: প্রত্যেক চিকিৎসা পদ্ধতিতে কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা থাকে। এই সমস্যা রোগীদের এনজিওপ্লাস্টি তে ব্যবহৃত কিছু উপাদান এর সাথে সাথে অ্যালার্জি হতে পারে। এছাড়াও ব্লক ধমনীতে রক্ত পাত,জমাটবাঁধা অথবা ক্ষতবিক্ষত মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি অস্ত্রপচার করার পর অনিয়মিত হার্টবিট হতে পারে সেই রোগীর।

রক্তনালী হার্টের ভাল্ব এমনকি ধমনীর ক্ষতির কারণ হতে পারে এই এঞ্জিওপ্লাস্টি। এছাড়াও কিডনি ও ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা থাকে। যাদের আগে থেকে কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের আরো বেশি করে সাবধান হওয়া উচিত।

এঞ্জিওপ্লাস্টি করার পর কিছু অবহেলা এড়াতে হবে। আগের থেকে অনেক বেশি যত্নবান হতে হবে নিজের প্রতি। চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ খেতে হবে। ধূমপানে আসক্ত হলে অবিলম্বে ত্যাগ করা উচিত। একটি হেলদি ডায়েট এর মধ্যে থাকতে হবে রোগীকে।