কেনো বিশ্বকর্মা পুজোর দিন উড়ানো হয় ঘুড়ি, জেনে নিন কারণ

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। সামনেই আসতে চলেছে বাঙালির সবথেকে বড় পার্বণ দুর্গাপুজো। তার আগে সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে চলছে প্রস্তুতি পর্ব। এর মাঝেই সেপ্টেম্বর মাসে পালিত হতে চলেছে দেবতাদের মাঝে “ইঞ্জিনিয়ার” দেবতা বিশ্বকর্মার আরাধনা। পুরান মতে, বিশ্বকর্মা যেমন ব্রহ্মার আদেশে পৃথিবীকে নিজ দক্ষতায় গড়ে তুলেছিলেন, তেমনই দেবতাদের জন্য বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র এবং রথ প্রস্তুত করেছিলেন। সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশেষ ঘুড়ি উৎসব পালন করেন। ১৮৫০ সাল থেকেই বাংলার বুকে চলে আছে এই উৎসব। জমিদারদের আমলে নাকি নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি জনসমক্ষে তুলে ধরতে টাকা বেঁধে ঘুড়ি উড়ানো হতো। অনেকে তো আবার টাকা দিয়ে ঘুড়ি বানিয়ে আকাশে উড়াতেন।

অতীতের সেই প্রথা আজও বাঙালিরা মেনে চলেন। এইজন্যেই পূজার দিন সকাল থেকেই বাংলার আকাশের বুকে রং-বেরঙ্গের ঘুড়ি উড়তে দেখা যায় আজও।তবে, বিশ্বকর্মা পূজার দিনে আকাশে ঘুড়ি উড়ানোর পেছনেও রয়েছে পৌরাণিক যুক্তি। পুরাণ নিয়ে যারা গবেষণা করেন তাদের মতে, বিশ্বকর্মা তার অপরূপ কারুকারিতার নিদর্শন দিয়ে দেবতাদের জন্য সুন্দর রথ প্রস্তুত করে দিতেন। যে রথ আকাশে উড়তে পারতো। অনেকটা বর্তমান যুগের বিমানের মতো। বিশ্বকর্মার সেই কৃতিত্ব স্মরণ করেই আজও বাংলার আকাশে বিশ্বকর্মা পূজার দিন আকাশে ঘুড়ি উড়ানো হয়।

উল্লেখ্য, ভারতে যারা নির্মাণ সংস্থার সাথে যুক্ত যেমন ইঞ্জিনিয়ার, বিল্ডার, শ্রমিক, কারিগর; প্রত্যেকেরই প্রধান উপাস্য দেবতা হলেন বিশ্বকর্মা। এইজন্য প্রত্যেক কারিগর যারা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, বাড়িঘর, যানবাহন, অলংকার তৈরি সাথে জড়িত, বিশ্বকর্মা পূজার দিন তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে বিশ্বকর্মার আরাধনা করে থাকেন। পাশাপাশি, ঘুড়ি উড়ানো উৎসবও পালিত হয়। উল্লেখ্য, এ বছর ১৬ই সেপ্টেম্বর বাংলায় বিশ্বকর্মা পুজো হতে চলেছে। ফলে, ঐদিন ঘুড়ি উৎসব পালনের জন্য ঘুড়ি কিনতে ঘুড়ির দোকানগুলিতে উপচে পড়ছে ভিড়।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন

/p>