অবশেষে হাতরাস কাণ্ডে মিডিয়াকে গ্রামে ঢোকার অনুমতি, গুরুতর অভিযোগ করল ধ’র্ষিতার পরিবার

উত্তরপ্রদেশের প্রশাসন এবং মিডিয়ার দীর্ঘ ২৭ ঘন্টার যুদ্ধের অবসান ঘটলো। দেশ জুড়ে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়ে অবশেষে হার মানতে বাধ্য হলো উত্তরপ্রদেশের যোগী প্রশাসন। প্রবল বিতর্কের মুখে পড়ে এবং বিভিন্ন মহলের চাপের কারণে অবশেষে হাথরাসের নির্যাতিতার বাড়ির সামনে থেকে ব্যারিকেড তুলতে বাধ্য হল পুলিশ।ফলে নির্যাতিত তরুনীর বাড়িতে ঢুকে তার পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কথা বলতে সমর্থ হলেন সংবাদকর্মীরা।

সংবাদমাধ্যমের কাছে নির্যাতিতা তরুণীর পরিবারের বিস্ফোরক মন্তব্য, উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনের ওপর তাদের আর কোনো আস্থা নেই। তারা চান সুপ্রিমকোর্টের তত্ত্বাবধানে নির্যাতিতা তরুণীর ধর্ষণ এবং খুনের তদন্ত করা হোক। এমনকি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তৈরি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিটের তদন্তের উপর থেকেও আস্থা হারিয়েছেন তারা। পুলিশ প্রশাসন এমনকি সিবিআইয়ের উপরেও ভরসা করতে পারছেন না তারা।

তাদের একটাই দাবি, তাদের পরিবারের মেয়ের উপর যে অত্যাচার হয়েছে তার তত্ত্বাবধান করুক সুপ্রিম কোর্ট। তারা জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশের প্রশাসন তাদের কাছ থেকে ফোন কেড়ে নিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল পুলিশ। এমনকি তাদের বাড়ি থেকে বেরোনোর ক্ষেত্রেও জারি করা হয়েছিল নিষেধাজ্ঞা। হাথরাস সদরের এসডিএম প্রেম প্রকাশ মীনা অবশ্য নির্যাতিতা তরুণী পরিবারের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের প্রধান অজয় লাল্লুর অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশের প্রশাসন তাকে রীতিমত হাউস অ্যারেস্ট করে রেখেছে। তার দাবি, উত্তরপ্রদেশ সরকার কি এমন লুকানোর চেষ্টা করছে যে তাকে হাউস অ্যারেস্ট করে রাখা হলো? তার অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশে কোনো আইন শৃঙ্খলা নেই। যোগী রাজ্যে মহিলারা সুরক্ষিত নন। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার এর পরে আজ আবারো নির্যাতিতা তরুণীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য হাথরাসে প্রবেশ করার চেষ্টা করবেন কংগ্রেস দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং উত্তর প্রদেশের কংগ্রেস সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাদের সঙ্গেই উত্তরপ্রদেশ আসছেন ৪০ থেকে ৫০ জন কংগ্রেস কর্মী।