এটি একটি অন্য ধামযা’ত্রা! খা’রা’প সময়ে এই মন্দিরেই এসেছিলেন জুকারবার্গ-স্টিভ জবস

সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের চারধাম যাত্রায় ২০ জন তীর্থযাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। তবে এই একই রাজ্যে যে আরও এক প্রসিদ্ধ এবং জনপ্রিয় মন্দির আছে তা জানেন কি! উত্তরাখণ্ডের সবুজ কুমায়ুন পর্বতের পাদদেশে রয়েছে কাইঞ্চি ধাম। এখানকার গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া অত্যন্ত মনোরম। তাই গ্রীষ্মের ছুটি উপভোগ করতে যাবেন নাকি এখানে?

নৈনিতাল থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে নৈনিতাল-আলমোরা রাস্তায় অবস্থিত দর্শনার্থীদের কাছে কাইঞ্চি ধাম হিসেবে জনপ্রিয় একটি হনুমান মন্দির রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত নিম কারোলি বাবা আশ্রম একটি আধুনিক তীর্থকেন্দ্র। ভজন, কীর্তনে লিপ্ত হয়ে অনেকেই এই ঐশ্বরিক স্থানের আধ্যাত্মিক পরিবেশে নিমগ্ন হন।

ভগবান হনুমানের আশীর্বাদ পেতে এই স্থানে বছরের প্রতিটা সময়েই তীর্থযাত্রীদের ভিড় লেগেই থাকে। ১৯৬৪ সালে নিম কারোলি বাবা এই কাইঞ্চি ধাম স্থাপন করেছিলেন বলে জানা যায়। হনুমানের এই পরম ভক্ত সারা জীবন নানান অলৌকিক কাজ করে গেছেন। প্রতি বছর ১৫ জুন আশ্রমের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

আরো পড়ুন: এই ধরনের লোকেদের হাতে টা’কা থাকে না, এদের জীবনে ঋণ ও টা’কা’র অভাব দে’খা দেয়

আর এই সময় লক্ষ্য লক্ষ্য ভক্তের সমাগম হয় এখানে। মন্দিরের পাশে রয়েছে একটি গুহা যেখানে নিম কারোলি বাবা পূজা করতেন এবং নিজের সময় কাটাতেন। পর্যটকরা প্রার্থনা করতে এই গুহায় যেতে পারেন কারণ এর সাথে ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে।

নিম কারোলি বাবার নাম আজ চারিদিকে ছড়িয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে ফেসবুকে র চেয়ারম্যান মার্ক জুকেরবার্গও এই সাধুর বিরাট ভক্ত। বাবার শিক্ষায় অনুপ্রাণিত হয়ে জুকেরবার্গ, হলিউড অভিনেত্রী জুলিয়া রবার্টস, অ্যাপলের সিইও স্টিভ জোভস প্রমুখ আন্তর্জাতিক ব্যক্তিরাও এই মন্দির পরিদর্শনে এসেছিলেন। আর তারপর থেকেই ধীরে ধীরে এই মন্দিরটি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ধর্মীয় কেন্দ্রগুলির তালিকায় স্থান পেয়েছে।

সাধারণত সারা বছর এখানে তাপমাত্রা অল্প ঠান্ডা এবং প্রাণবন্ত থাকে। তাই যখন যান না কেন এক মন ভালো করা মনোরম এবং শান্তির পরিবেশ খুঁজে পাবেন এই মন্দির এবং আশ্রমে। যে কোনো মাসের যে কোনো দিন এই মন্দিরে যাওয়া যায়।

বাবা নিম করোলি: মাত্র ১৭ বছর বয়সে বাবা নিম কারোলি ঈশ্বরের জ্ঞান লাভ করেছিলেন। বাবা ছিলেন হনুমানজির এক মহান ভক্ত। উত্তরাখণ্ডের মানুষ বাবাকে হনুমানজির অন্যরূপ বলে ভক্তি করেন। জীবদ্দশায় তিনি প্রায় ১০৮টি হনুমান মন্দির তৈরি করেছিলেন। কথিত আছে, একবার মন্দিরে ঘি-এর অভাব হয়েছিল।

আরো পড়ুন: মাত্র ৬০ টা’কা’য় মিলছে “দুয়ারে বিরিয়ানি”, দিনে কতো টা’কা বি’ক্রি করেন জানেন?

সেই সময় বাবার নির্দেশ অনুযায়ী নিকটবর্তী নদী থেকে জল নিয়ে আশ্রমে যখন নিয়ে যাওয়া হয় তখন দেখা যায় সেই জল সম্পূর্ণরূপে ঘি-তে পরিণত হয়েছে। আবার এমন কথাও শোনা যায় যে একবার এক ব্যক্তি প্রচণ্ড রোদে বাবাকে দেখতে এসেছিলেন। বাবা তখন সেই ভক্তের কষ্ট লাঘব করতে তাকে মেঘের ছাতা বানিয়ে দিয়েছিলেন।

বর্তমানে উত্তরাখণ্ডের অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রের মতো এখানেও পছন্দ মতো হোটেল পাওয়া যায়। এছাড়াও এখানে বিলাসবহুল হোটেল, কটেজ, হোমস্টে, গেস্ট হাউস ও লজও রয়েছে। আর এখান থেকে সুদূর হিমালয়ের মনোরম দৃশ্য আপনার চোখকে তৃপ্তি দেবেই।

এই বিখ্যাত মন্দির ও আশ্রমে প্রবেশের জন্য কোনোরকম প্রবেশ মূল্য নেই। সকল পর্যটকদের জন্য এই হনুমান মন্দিরটি সকাল ৫টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত খোলা থাকে। এছাড়া সরকারি ছুটি সহ সপ্তাহের প্রতিদিনই মন্দিরের দরজা খুলে থাকে পর্যটক ও ভক্তদের জন্য।