মোদির সভায় ছেলেকে হারিয়েও কর্তব্য পালনে ব্যস্ত, অবশেষে মুখে হাসি ফোঁটালেন দলের কর্মীরাই

দেশজুড়ে শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতিপর্ব। দেশের আনাচে-কানাচে জনসভায় ব্যস্ত হয়ে গেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নরেন্দ্র মোদি। তেমনই একটি জনসভা করতে নরেন্দ্র মোদী এসেছিলেন সোনারপুরে। কিন্তু আজকে এই খবরটি নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে নয়। বরং তাকে দেখতে আসা একজন সামান্য মহিলা জীবনের সাথে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। মিনা সরদার বলে এই মহিলার কাছে নরেন্দ্র মোদী রীতিমতো দেবতার তুল্য। তাই নরেন্দ্র মোদির জনসভায় আসার কথা শুনে সকাল থেকেই তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছিলেন তিনি।

স্বামী কাজে ব্যস্ত থাকায় নিজের ছেলেকে নিয়ে মোদির সভায় চলে যান সোনারপুরের মিনা। তার ছেলের বয়স মাত্র ছয় বছর। কিন্তু জনসভায় আসার পরেই ঘটে বিপত্তি। কাজের মধ্যে হঠাৎ করে জনসমুদ্রের হারিয়ে যায় তার ছোট্ট ছেলেটি। চোখে মুখে অন্ধকার দেখতে শুরু করে দেন তিনি।

মিনারেল সোনারপুর দক্ষিণ বিজেপির মহিলা কর্মকর্তা। বিয়ের আগে প্রায় 10 বছর ধরে তিনি বিজেপির সদস্য। বিয়ে হবার পরেও একইভাবে দলে থেকে কাজ করে গেছেন তিনি। তার কাছে কোনদিন হস্তক্ষেপ করেনি তার স্বামী। সন্তান হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই সামান্য বিরতি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তারপর আরো একবার নতুন উদ্যম নিয়ে কাজে ফিরে এসেছিলেন মিনা। মিনার দায়িত্ব ছিল মহিলাদের জন্য বরাদ্দ আসলে জেলার মহিলা কর্মকর্তা এবং পদাধিকারীদের দেখভাল করা।

কাজে অবিচল মিনা তাই সকাল সকাল ছেলেটিকে কোলে নিয়ে পৌঁছে যান জনসভাতে। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে দায়িত্ব সামলাতে সামলাতে হঠাৎ করে দেখেন যে তার ছেলে পাশে নেই। জনসমুদ্রের মধ্যে হঠাৎ করে মিনা অথৈ জলে পড়ে যান। এদিক-ওদিক খুঁজতে শুরু করে দেন তিনি। এদিকে ততক্ষণে সামনে মহাযজ্ঞ শুরু হয়ে গেছে।

অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর মিনা শেষ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের কাছে আবেদন জানান ছেলেকে ফিরে পাবার জন্য ব্যবস্থা করে দিতে। নিজের জায়গায় এসে মুখ বুজে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন তিনি। চোখের জল নিয়ে মুখ বুজে দায়িত্ব পালন করতে করতে হঠাৎ করে দেখেন কর্মকর্তারা তার ছোট্ট ছেলেটি কে নিয়ে হাজির হয়েছেন তার সামনে। ছেলেকে ফিরে পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই হাসি ধরে না মিনার মুখে। চোখের জল আর মুখে হাসি নিয়ে ছোট্ট ছেলেকে বুকে ধরে শুধু বললেন, বড্ড দুষ্টু।