বরখাস্ত আট সাংসদ রাতভর ধর্ণায়, সকালেও সংসদের বাইরে অবস্থানে সামিল রয়েছেন তারা

সম্প্রতি কেন্দ্রের প্রস্তাবিত নতুন কৃষি বিল নিয়ে প্রতিবাদ করার অপরাধে আগামী সাত দিনের জন্য রাজ্যসভার অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন আট জন সাংসদ। এই আটজনই বর্তমানে সংসদের বাইরে ধর্নায় বসেছেন। নতুন কৃষি বিল প্রত্যাহার করা এবং তাদের উপর থেকে রাজ্যসভার অধিবেশনে যোগদান করার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে সংসদের বাইরে গান্ধী মূর্তির কাছে খোলা আকাশের নিচেই রাত কাটাচ্ছেন বিরোধীরা।

উল্লেখ্য, রবিবার কেন্দ্রের প্রস্তাবিত নতুন কৃষি বিল রাজ্য সভায় উত্থাপন করা হয়। প্রথম থেকেই এই বিলের বিরোধিতা করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাংসদেরা। এদিন কৃষি বিল প্রসঙ্গে রাজ্যসভা রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, বিরোধী সাংসদেরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের বিরুদ্ধে রাজ্যসভার রুল বুক ছিঁড়ে দেওয়ার এবং ডেপুটি চেয়ারম্যানের মাইক ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এর জেরে ১০ মিনিটের জন্য রাজ্য সভার অধিবেশন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন চেয়ারম্যান এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু। তবে ওই দিনই বিরোধীদের বিরোধিতা সত্ত্বেও রাজ্যসভায় ধ্বনি ভোটে বিলটি পাশ হয়ে যায়। এরপর ডেপুটি চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, কংগ্রেস সাংসদ রাজিব সাতভ, সৈয়দ নাসির হোসেন, রিপুন বরা, আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং, সিপিএম সাংসদ কে কে রাগেশ এবং ই করিম।

সোমবার রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হতেই ডেপুটি চেয়ারম্যান বিরোধী ওই আটজন সাংসদকে সংসদকে অবমাননা করার দায়ে আগামী সাত দিনের জন্য সাসপেন্ড করেন। এর পরেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদের বাইরে খোলা আকাশের নিচে ধর্নায় বসেন সাংসদেরা। সোমবার রাতটা সংসদের বাইরে কাটিয়েছেন বিরোধীরা। তাদের অবস্থান-বিক্ষোভ এখনো চলছে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের দাবি, সাংসদদের এভাবে অধিবেশন থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় সরকার রীতিমতো গণতন্ত্র বিরুদ্ধ কাজ করেছে।