কৃষি বিল নিয়ে অসন্তোষ, বিজেপি ছাড়তে পারে অকালীরা, মুখ খুললেন মোদি, “কৃষকদের ভুল বোঝানো হচ্ছে”

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে প্রস্তাবিত নতুন কৃষি বিল ২০২০ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে প্রবল বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কিছুদিন আগে কৃষিক্ষেত্রে ফসল বিক্রি এবং বাজারে কৃষি পণ্যের উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমানোর জন্য তিনটি অর্ডিন্যান্স জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার। এই অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, এবার থেকে বেসরকারি সংস্থা গুলি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কৃষি পণ্য কিনতে পারবে। শুধু তাই নয়,সরকারের অনুমতি ছাড়াই নিজের ইচ্ছামত দামে কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কিনতে পারবে বেসরকারি সংস্থা। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে অবশ্য আশ্বাস দিয়ে জানানো হয়েছে, এতদিন সরকার যেভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ন্যূনতম সমর্থন মূল্যের বিনিময়ে কৃষিপণ্য কিনেছে, ভবিষ্যতেও তার ব্যতিক্রম হবে না।

কেবল বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন দেশীয় কৃষকরা। তাদের দাবি, কৃষিপণ্যের বাজারের উপর থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। কৃষকদের আশঙ্কা, এই নতুন বিলের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ন্যূনতম সমর্থন মূল্যে কৃষি পণ্য কেনা বন্ধ করে দেবে সরকার। এর ফলে, কৃষকদের এবার থেকে বেসরকারি সংস্থা গুলির উপরেই নির্ভর করতে হবে। যার ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন তারা। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে ইতিমধ্যেই পাঞ্জাব এবং হরিয়ানাতে কৃষকেরা বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। পাঞ্জাবে আগামী ২৪-২৭ সেপ্টেম্বর বিলের বিরোধিতা করে “রোকো” কর্মসূচি পালন করা হবে।

পাশাপাশি, আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর কৃষকেরা ভারত বন্ধের ডাক দিয়েছেন। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় শাসক দলের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে বিজেপির সবচেয়ে পুরনো জোট শরিক শিরোমণি অকালি দল। অকালি দল থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অংশগ্রহণকারী একমাত্র মন্ত্রী হরসিমরত কৌর বাদল গতকাল মন্ত্রিসভার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, এই নতুন বিল লাগু হলে দালালদের উপদ্রব কমবে, ফলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।