নেট ঘেঁটে ডায়েট চার্ট, ওজন কমলো ৪০ কেজি, প্রাণ যাওয়ার উপক্রম যুবতীর

যেখানে অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে দেবার জন্য তৎপর হয়ে থাকে যুবতীরা, সেখানে অতিরিক্ত মেদ কমিয়ে ফেলার ফলে প্রাণ সংশয় এর মুখে পড়ে গেছেন এক যুবতী। চিকিৎসকরা বারবার বলেছেন, ডায়েট করা ভালো কিন্তু, অবশ্যই তা নিজের শরীর স্বাস্থ্য মেনে। ডায়েট করতে গিয়ে অসুস্থ হবার কোন প্রয়োজন নেই। সেই কথাটি সত্যি হয়ে গেল এক যুবতীর জীবনে। সদ্য কৈশোরে পা রেখেছে রাখি নামে একজন যুবতী। ওজন বেশি হওয়াতে স্বাভাবিকভাবে মনোক্ষুন্ন ছিল তার। নিজেই নেট ঘেটে শুরু করেছিলেন ডায়েটিং। প্রাথমিকভাবে বেশ ভালো ফল পেয়েছিলেন তিনি। হুরমুড়িয়ে কমতে থাকলে ওজন। উৎসাহিত হয়ে ফ্যাটযুক্ত খাবার খাদ্য তালিকা থেকে একেবারেই বাদ দিয়ে দেন সেই তরুণী। ওজন কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৪০ কেজি।

কিন্তু হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া যে জীবনে বড় সর সমস্যা তৈরি করে দিতে পারে তা বুঝতে পারেননি তিনি। হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়ার পর হঠাৎ করে আর দিয়ে শুরু হয় মলত্যাগ। অস্বাভাবিকভাবে পেট ফুলে যায়। একসময় শুরু হয় বমি। এতটাই বমি হয় যে, জল খেলেও তা বেরিয়ে আসে। উপায় না পেয়ে ইএম বাইপাস লাগোয়া মুকুন্দপুর এর বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। ডক্টর সঞ্জয় মন্ডল জানিয়েছেন যে, দুই বছর আগে রাখির ওজন ছিল ৭৪। এখন তা কমে দাঁড়ায় ৩৫। হাসপাতালে ভর্তি যখন করানো হয়েছিল তার ওজন ছিল ৪০ কেজি। অস্ত্রোপচার করার পর আরও কিছু ওজন কমে গেছে।

রাখি প্রসঙ্গে ডক্টর মন্ডল জানিয়েছেন যে, এটা কিন্তু এক রকমের রোগ। এর পোষাকি নাম এস এ এম সিনড্রোম। আমাদের পাকস্থলী থেকে ক্ষুদ্রান্তে যাবার পথে রয়েছে সুপেরিয়র মিজেন্তেরিক আর্টারি। ডায়েটিং করার সময় রাখী শরীর চর্বিহীন হয়ে গেছিল। আমাদের শরীরে চর্বি থাকার ফলে ধমনী খাবার পরিবহনে কোন সমস্যা তৈরি করতে পারে না। কিন্তু এক্ষেত্রে চর্বি শূন্য হয়ে যাবার পরে ধমনী একটি সমস্যা তৈরি করতে পেরেছিল পাকস্থলী এবং ক্ষুদ্রান্তের মাঝে। পাকস্থলীতেযে খাবার যা ছিল তা পাকস্থলীতেই রয়ে যাচ্ছিল। স্বাভাবিক অবস্থায় একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের পাকস্থলীতে ১ লিটার পর্যন্ত খাবার থাকতে পারে। এক্ষেত্রে রাখির পাকস্থলী থেকে বার করা হয়েছে প্রায় ১৩ লিটার খাবার। পাকস্থলী অনেকটা জায়গা জুড়ে থাকার ফলে অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কোণঠাসা হয়ে পড়ে।

সঞ্জয় বাবু জানান যে, ইউএসজি করেই সমস্যাটা আগে থেকে বোঝা গিয়েছিল। সময়মতো অস্ত্রোপচার করা না হলে পাকস্থলী ফেটে প্রাণ সংশয় হতে পারত রোগীর। পাকস্থলী থেকে ক্ষুদ্রান্তে খাবার যাবার জন্য একটি বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে। স্বাভাবিক পথ এখনো বন্ধ করা হয়নি। শরীরে আস্তে আস্তে ফ্যাটের পরিমাণ বেড়ে গেলে স্বাভাবিক পথেও খাবার সরবরাহ করা যাবে। তবে দীর্ঘ ডাক্তারী জীবনে এরকম কেউ আগে কখনো দেখেননি বলে জানিয়েছেন সঞ্জয় বাবু।