দিন দিন ভুয়ো সংস্থার আঁতুড়ঘর হয়ে উঠছে কলকাতা, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

দিনে দিনে ভুয়ো সাম্রাজ্য গড়ে তুলছে কলকাতা। উপযুক্ত তদন্ত করলে দেখা যাবে, কলকাতার লালবাজার থেকে বউবাজার পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই অসংখ্য বেনামী সংস্থা গড়ে উঠছে, যাদের না আছে কোন নিজস্ব অফিস, না আছে কর্মী, না কোনো কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য কিছুই নেই। এই সমস্ত ভুয়ো সংস্থার একটাই কাজ, ইনকাম ট্যাক্সের হাত থেকে বাঁচতে বেআইনিভাবে বেনামে আর্থিক লেনদেন করা।

সম্প্রতি, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পার পরিবারের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, কলকাতার সাতটি সংস্থার মাধ্যমে কর্নাটকের ওই পরিবারের কাছে ঘুষের টাকা পৌঁছেছে। এই সংস্থাগুলির ঠিকানা হিসেবে বিপিনবিহারী গাঙ্গুলি স্ট্রিটের দু’টি বাড়ির ঠিকানা নথিভূক্ত করা আছে। কিন্তু সেখানে এ ধরনের কোনো সংস্থায় নেই বলে জানা গেছে। কলকাতার অলিতে-গলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এই ধরনের বেআইনি সংস্থা।

আয়কর দফতরের এক আধিকারিক জানালেন, একটা সময় ছিল যখন সারা ভারতের প্রায় ৯০% ভুয়ো সংস্থা কলকাতাতেই গজিয়ে উঠেছিল। এরপর, কালো টাকা উদ্ধার এর উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্তকারী দল একাধিকবার কলকাতার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। যার ফলে এই সংস্থাগুলির দৌরাত্ম্য কিছুটা হলেও কমেছে। তবে একেবারে ভুয়ো সংস্থা মুক্ত হয়ে উঠতে পারেনি কলকাতা।

ওই আধিকারীক জানালেন, বর্তমানে কলকাতার তুলনায় সুরাটে এই ধরনের ভুয়ো সংস্থার সংখ্যা বেড়েছে। এই সংস্থাগুলির প্রধান কাজ হল কর ফাঁকি দেওয়া। বিভিন্ন খাতে খরচ দেখিয়ে সরকারকে কর ফাঁকি দেওয়া হয় এই সংস্থার মাধ্যমে। পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকার বিনিময়ে কলকাতার বিভিন্ন শ্রমজীবি মানুষ যেমন মালবাহক, দিনমজুর, চা-ওয়ালা, নিরাপত্তা কর্মীদের নাম এবং তাদের সই নিয়ে এই বেআইনী কারবার চলে। কলকাতা যেন দিন প্রতিদিন ভুয়ো সংস্থার আঁতুড়ঘর হয়ে উঠছে।