‌হিংসার আশঙ্কা থাকায় মাঝরাতে দাহ করা হয়েছে, হাথরস কাণ্ড নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বলল যোগী সরকার

“গোয়েন্দারা জানিয়েছিল, হাথরাসের নির্যাতিতা তরুণীর দেহ সকালে দাহ করা হলে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে, তাই গভীর রাতেই দাহ কার্য সম্পন্ন করা হয়েছে”, সম্প্রতি হাথরাস কাণ্ড নিয়ে সুপ্রিমকোর্টের কাছে জবাবদিহি করতে গিয়ে হলফনামায় এমনটাই জানালো উত্তর প্রদেশের যোগী সরকার। উল্লেখ্য, হাথরাসের নির্যাতিতা তরুণীর মৃতদেহ পরিবারের অনুমতি না নিয়ে রাতের অন্ধকারেই লুকিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে উত্তরপ্রদেশ সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, উচ্চ আদালতে জবাবদিহি করতে গিয়ে এমনটাই কারণ দর্শালো যোগীর প্রশাসন। যোগী সরকারের দাবি, গোয়েন্দারা সরকারকে গোপনে আগাম সতর্কবার্তায় জানিয়েছিল, ওই তরুণীর মৃত্যু ঘিরে দাহ করার সময় রাজ্যে অশান্তি ছড়াতে পারে, আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে। তাই পরিবারের অনুমতি নিয়ে রাত আড়াইটে নাগাদ ক্ষেতের মধ্যেই তরুণীকে দাহ করা হয়।

পাশাপাশি, হলফনামায় বাবরি কান্ডের রায়ের দোহাই দেওয়া রয়েছে। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার সকালে বাবরি মসজিদ মামলার রায় প্রদানের দিন ধার্য করা ছিল। তাই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সারা উত্তরপ্রদেশেই কড়া সতর্কবার্তা জারি করা ছিল। যোগী সরকারের দাবি, ২৯শে সেপ্টেম্বর সকালে সফরদঙ হাসপাতালের সামনে যেভাবে ধরনা চলছিল, বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হচ্ছিল এবং ঘটনাটিকে জাতি এবং সাম্প্রদায়িক রং লাগানোর চেষ্টা চলছিল, তা বিবেচনা করেই গোয়েন্দারা আগাম সতর্কবার্তা জারি করেছিল।

যোগী প্রশাসনের বক্তব্য, তারা আগেভাগেই জানতেন, নির্যাতিতার মৃত্যু ঘিরে উভয় সম্প্রদায়, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং মিডিয়ার তরফ থেকে লাখ লাখ বিক্ষোভকারী ঐদিন হাথরাসে অশান্তি সৃষ্টি করতে পারেন। এছাড়াও, মৃত্যুর পর প্রায় কুড়ি ঘন্টা কেটে গিয়েছিল, তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তরুণীর দেহ দাহ করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।