অতিবেগুনি রশ্মি দিয়ে মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই খতম ক’রোনা ভা’ইরাস, সফল গবেষণা

বিগত প্রায় দশ মাস ধরে পৃথিবীর বুকে কার্যত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সার্স কভ-২ বা করোনাভাইরাস। অতিক্ষুদ্র এই ভাইরাস মুহূর্তের মধ্যেই পৃথিবীর চালচিত্র বদলে দিয়েছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্র থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্র, শিক্ষাক্ষেত্র থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবন, সবেতেই যেন এক অদৃশ্য দেওয়াল তুলে দিয়েছে এই ভাইরাস। বিশ্বজুড়ে এখন শুধুই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের খোঁজে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে মানুষ। এরই মাঝে নতুন আশার আলো নিয়ে এলো অতিবেগুনি রশ্মি।

সম্প্রতি, আমেরিকান জার্নাল অফ ইনফেকশন কন্ট্রোল নামক একটি জার্নালেঅতিবেগুনি রশ্মি নিয়ে একদল গবেষকের গবেষণার রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, গবেষকেরা দাবি করছেন ২২২ ন্যানোমিটার ওয়েভলেংথ যুক্ত আলট্রাভায়োলেট-সি রশ্মি করোনাভাইরাস ধ্বংস করতে সম্পূর্ণভাবে কার্যকরী। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই রশ্মি কোনো ভাবেই মানব ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক নয়।

জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নিয়ে গঠিত গবেষকদলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আলট্রাভায়োলেট-সি রশ্মিটি মানব ত্বক ভেদ করে শরীরে প্রবেশ করতে পারে না। শরীরের বাইরে করোনাভাইরাসকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয়। অতএব ভিড়বহুল এলাকায় যদি এই ধরনের আলোকরশ্মির ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে অনায়াসেই তা ওই এলাকার বাতাসে উপস্থিত সমস্ত করোনাভাইরাসকে ধ্বংস করে দেবে। ফলে সংক্রমণ ছড়ানোর কোনো সম্ভাবনা থাকবে না।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, ২২২ এবং ২৫৪ ওয়েভ লেন্থের অতিবেগুনি রশ্মি অনায়াসেই করোনা ভাইরাস নির্মূল করতে সক্ষম। তবে ২৫৪ এর তুলনায় ২২২ ওয়েভ লেন্থ মানব ত্বক এবং চোখের পক্ষে ক্ষতিকারক নয়। তাই মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই মানব শরীর সংলগ্ন প্রায় ৯৯.৭% করনা ভাইরাস নির্মূল করে দিতে পারে এই অতিবেগুনি রশ্মি। তবে ২৫৪ ওয়েভ লেন্থ বিশিষ্ট অতিবেগুনি রশ্মিটিকেও ফাঁকা ঘর বা এলাকা জীবাণুমুক্তকরণের কাজে লাগানো যেতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।