প্রধানমন্ত্রীকে ধর্ষকের সঙ্গে তুলনা, সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, জেলাজুড়ে হইচই!

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিরোধীতা করতে গিয়ে সীমা অতিক্রম করলেন তৃণমূল কর্মী। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার দিনই তৃণমূলের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুৎসা রটানোর অভিযোগ আনলো বিজেপি। প্রধানমন্ত্রীকে ধর্ষকের সঙ্গে তুলনা করে পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে, জেলা জুড়ে হইচই। প্রধানমন্ত্রীকে ধর্ষকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আর তা ফেসবুকে পোস্ট করেছেন এক তৃণমূল কর্মী! এমনই অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হল বিজেপি। নির্বাচনের মুখে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই পোস্টকে ঘিরে মালদহ জেলাজুড়ে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নির্বাচন ঘোষনার দিন প্রধানমন্ত্রী ও দলকে কালিমালিপ্ত করতে তৃণমূলের মদতে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে ওই পোস্ট করা হয়েছে বলে বিজেপি অভিযোগ তুলেছে।

শনিবার হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় ওই তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি। এ ধরণের পোস্টকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলার অবণতি হতে পারে বলেও বিজেপির তরফে আশঙ্কা করা হয়েছে। ফলে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপি। পুলিশে অভিযোগ দায়ের হতেই অবশ্য ওই পোস্ট মুছে দিয়েছেন ওই তৃণমূল কর্মী। তার মেয়ে মোবাইল নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় ভুল করে তা পোস্ট হয়ে গিয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন! যদিও বিজেপি নেতৃত্ব মানতে চাননি। হরিশ্চন্দ্রপুরের আইসি সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সব খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

পুলিশ ও বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ফেসবুকে নিজের ওয়ালে ওই পোস্ট করেছিলেন হরিশ্চন্দ্রপুরের রাড়িয়ালের বাসিন্দা রেদাউল ইসলাম। তিনি তৃণমূল কর্মী বলে এলাকায় পরিচিত। সেখানে একটি ছবি পোস্ট করেছেন রেদাউল। তাতে দেখা যাচ্ছে পাশাপাশি রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও প্রধানমন্ত্রী। দুজনেরই দাড়ি রয়েছে। পোস্টে মন্তব্য করা হয়েছে, চেষ্টা করেছিল কবিগুরু কে নকল করতে। তার নীচে পাশাপাশি রয়েছে আশারাম ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি রয়েছে। সেখানে মন্তব্য করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলো ধর্ষণকারী বাবা আশারামের মতো। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে ধর্ষকের সঙ্গে তুলনা করার ওই পোস্ট সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিজেপি। এমন পোস্টকে ঘিরে এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবণতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও বিজেপি মনে করছে।

বিজেপির জেলা সম্পাদক দীপঙ্কর রাম বলেন, নির্বাচনের মুখে প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করতেই তৃণমূলের মদতে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে এটা করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পুলিশকে বলেছি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে। জেলা সম্পাদক বলেন, কোনও দলেরই নেতানেত্রী সম্পর্কে এমন কুরুচিকর মন্তব্য শোভা পায় না। আর আগে হরিশ্চন্দ্রপুরের এক সিভিক ভলান্টিয়ার বাপি পাল মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। আমরাও চাই ওই পোস্ট যিনি করেছেন পুলিশ তাকে দ্রুত গ্রেফতার করুক। নয়তো আমাদের অন্যকিছু ভাবতে হবে।

এই প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি মানিক দাস বলেন, এখানে দলের মদত থাকবে কেন। প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী কারো সম্পর্কেই এমন কুরুচিকর মন্তব্য করা ঠিক নয়। কি হয়েছে খোঁজ নিচ্ছি।এদিকে পুলিশে অভিযোগ হতেই পোস্টটি অবশ্য নিজের ফেসবুক ওয়াল থেকে মুছে দিয়েছেন রেদাউল। এদিন তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বাইরে রয়েছি। তার দাবি, ফোন মেয়ের হাতে ছিল। ভুলবশত ওটা পোস্ট হয়ে গিয়েছে। কেউ দুঃখ পেলে আমি তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

যদিও বিষয়টি বাইরে আসার পর ভুলবশত হয়েছে বলে দায় এড়িয়ে যেতে চাইছে তৃণমূল। দলের সমর্থন করতে গিয়ে বিরোধীদের ট্রোল করার ছলে যে নোংরামিতে মাতছেন সবাই তা দেশের সংস্কৃতির পক্ষে লজ্জাজনক, এমনটাই অভিমত প্রকাশ করছে নেটিজেনদের একাংশ। বিরোধীতার নামে এইভাবে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুৎসা করা কখোনোই কাম্য নয়। তৃণমূল এই ঘটনার দায় অস্বীকার করলেও, তৃণমূলের মদতেই এই কাজ হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।