বন্ধ হ’চ্ছে “স্বর্গের সিঁড়ি”, রয়েছে প্রায় ৪০০০ ধা’প, জানুন কারণ

যে সমস্ত পর্যটকরা বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ান অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজে, তাদের জন্য আদর্শ স্থান হল হনুলুলু। হাওয়াইয়ের হনুলুলুতে অবস্থিত স্বর্গের সিঁড়ি পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র। একবার যদি এই সিঁড়ি দিয়ে যেতে পারেন আপনি, তাহলে নিঃসন্দেহে একটি বড় অ্যাডভেঞ্চার করে ফেলবেন আপনি। দীর্ঘ এই সিঁড়ি দিয়ে যেতে গেলে যে কারোর বুক কেঁপে যাবে, যে কারোর পক্ষে সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়।

কিন্তু এবার প্রশ্ন হল হঠাৎ এই স্বর্গের সিঁড়ি সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, কিন্তু কেন? এই সিঁড়ি বিশেষত্বই বা কি? একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা গেছে, হনলুলুর কর্মকর্তারা এই জনপ্রিয় টুরিস্ট স্পট বন্ধ করে ফেলার পরিকল্পনা নিয়ে ফেলেছেন ইতিমধ্যেই। এই টুরিস্ট স্পট নিঃসন্দেহে এটি বিপদজনক স্থান বলে ঘোষণা করা হয়েছে। যেকোনো সময় যেকোনো মানুষের মৃত্যু হতে পারে এখানে।

গত বুধবার সর্বসম্মতিক্রমে হনলুলু সিটি কাউন্সিলর স্বর্গের সিঁড়ি সরিয়ে ফেলার কথা চিন্তা ভাবনা করেছেন। এটি সরিয়ে ফেললে একটি ভালো এবং অবশ্যই রোমাঞ্চকর স্থান পর্যটকদের কাছে অজানা থেকে যাবে। এই স্থানের পেছনে রয়েছে একটি রহস্যময় ইতিহাস। বলা হয়, ১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হওয়ার সময় একটি গোপন সামরিক ঘাঁটিতে পৌঁছানোর জন্য এই সিঁড়ি তৈরি করা হয়। কিন্তু কোস্টগার্ড নিরাপত্তার কারণে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয় ১৯৮৭ সালে। যদিও তার পরেও এই সাইট টি দেখার জন্য বহু মানুষ প্রত্যেক বছর আসতেন।

এই স্বর্গের সিঁড়ি দিয়ে কিন্তু ওঠা অবৈধ। তবুও অনেক পর্যটক লুকিয়ে এই সিঁড়ি দিয়ে উঠতে চান। প্রতিবছর প্রায় ৪ হাজার পর্যটক এই সিড়ি দেখতে আসেন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ নিয়ম লঙ্ঘন করে সিড়িতে উঠতে চান, ধরা পড়লে ১,০০০ টাকা জরিমানাও করা হয় তাদের থেকে।উচ্চতা ২,৪৮০ ফুট, যার মধ্যে রয়েছে ৩,৯২২ টি সিঁড়ি। এটি নির্মিত ওয়াহু কুলাউ পর্বতশ্রেণীতে। এই সিঁড়ি বেয়ে উঠলে মনে হবে মেঘের মাঝে পৌঁছে গেছে। এজন্য একে বলা হয় স্বর্গের সিঁড়ি।