বন্ধ করে দেওয়া হল বিনামূল্যে ক’রোনা পরীক্ষার কিট দেওয়া, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে নারাজ রাজ্যগুলি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দাবি করোনা মহামারী নির্মূল করতে মাত্র তিনটি উপায় আছে, টেস্টিং, সনাক্তকরণ এবং আইসোলেশন। টেস্ট করানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে করোনা টেস্ট কিট প্রয়োজন। সারা দেশের পাশাপাশি রাজ্যেও প্রতিনিয়ত টেস্টের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এমত অবস্থাতেই কেন্দ্র ঘোষণা করল, এতদিন কেন্দ্রের তরফ থেকে যে টেস্ট কিট বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছিল, রাজ্যগুলিকে এবার থেকে তা খোলাবাজারেই কিনতে হবে।

কেন্দ্রের এই নতুন নির্দেশিকায় বেশ চাপের মুখে রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কেন্দ্র। প্রায় দশ দিন আগে রাজ্য স্বাস্থ্য সচিবের কাছে কেন্দ্রের এই নির্দেশিকা এসে পৌঁছায়। যেখানে স্পষ্ট বলা রয়েছে, ১লা সেপ্টেম্বর থেকে আর বিনামূল্যে করোনা টেস্ট কিট পাঠাবে না কেন্দ্র। এবার থেকে আরটিপিসিআর কিট এবং লালারস সংরক্ষণের জন্য ভিটিএম মেশিন নগদ অর্থেই কিনতে হবে রাজ্যকে।

রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, কেন্দ্রের নির্দেশ পেয়েই এ পর্যন্ত অন্ততপক্ষে আগামী দেড় মাসের জন্য আরটিপিসিআর কিট এবং লালারস সংরক্ষণের ভিটিএম মেশিন মজুত করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে তারা সংখ্যাটা আরও বাড়াতে চান। কেন্দ্র সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, কেন্দ্র যদি টেস্ট কিট দিতে না চায়, তাহলে রাজ্যকে তো তা কিনতেই হবে। এক্ষেত্রে রাজ্যের খরচ আরো বেড়ে যাবে।

রাজ্যের সূত্রের খবর, শুধুমাত্র টেস্ট কিট কিনতেই রাজ্যের রোজ ৮ লক্ষ টাকা খরচ হবে। তার সাথে, ভিটিএম মেশিন, সিপলার বা হাই সেনসিটিভ স্পেক্টমেট্রিকের মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি তো আছেই। এ প্রসঙ্গে আইসিএমআর চারটি ভেন্ডার নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এই ভেন্ডারের কাছ থেকেই টেস্ট কিট এবং ভিটিএম কিনবে রাজ্য। তবে রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা যে দুর্দশার সম্মুখীন হয়েছে, সেখানে করোনার টেস্ট কিট বাবদ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে স্বভাবতই বিব্রত রাজ্য।