হজ যাত্রার উপরেও বিধিনিষেধ ও নজরদারি চালাবে চীন! ভয়ে মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষেরা

ইসলাম ধর্মের মূল পাঁচটি ধর্মাচরণের মধ্যে একটি হলো হজযাত্রা। ধর্ম গুরুদের নিদান অনুযায়ী, সামর্থ্য থাকলে প্রত্যেক মুসলমানকে নিজের জীবনে অন্তত একবার হজযাত্রা করতেই হয়। তাতে ধর্মাচরণ সম্পূর্ণ হয়। এবার সেই হজ যাত্রার উপরেই ৪২টি নতুন বিধি-নিষেধ আরোপ করলো চীন সরকার। চীনে বসবাসকারী মুসলিম ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষেরা এতে প্রভূত অসুবিধার সম্মুখীন হবেন বলেই মনে করছেন।

মঙ্গলবার, চীন সরকারের তরফ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, চীনে বসবাসকারী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সৌদি আরবে হজ যাত্রার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এই প্রতিটি শর্ত মেনে চললে তবেই হজযাত্রার অনুমতি দেওয়া হবে। শর্ত না মেনে হজ করতে চাইলে প্রশাসনের তরফ থেকে হজযাত্রীদের প্রতি কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

চীন সরকারের প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুসারে এবার থেকে শুধু চিনা ইসলামিক সমিতির তরফ থেকেই হজ যাত্রার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে হজে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি প্রত্যেক হজযাত্রীকে কঠোরভাবে চীনের আইন এবং সৌদি আরবের আইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার সাথে প্রত্যেক হজযাত্রীকে ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরোধিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের রিপোর্ট থেকে জানা গেল, এবার থেকে হজ যাত্রার পূর্বে আবেদন করার সময় চীনের মুসলিম নাগরিকদের বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। এই শর্ত গুলি কি কি সে সম্পর্কে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে চীনের এই নতুন নির্দেশিকায় অশনিসংকেত দেখছেন সে দেশে বসবাসকারী দুই কোটি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। এমনিতেই চীন সরকারের বিরুদ্ধে উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার করার নানান অভিযোগ ওঠে। এবার হজ যাত্রার উপরেও নজরদারি চালাবে চীন, এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষেরা।