গোপনে ‘আন্ডারওয়াটার অবজারভেশন সিস্টেম’ গড়ে তুলছে চিন, স্যাটেলাইট ছবিতে তথ্য ফাঁস

ফাইল ছবি

লাদাখে ভারত-চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে যেমন ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা চালাচ্ছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি, ঠিক তেমনই গভীর সমুদ্রেও নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে বদ্ধপরিকর চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। সম্প্রতি স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়ল, দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্য বিস্তার করতে সমুদ্রের তলায় অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে “আন্ডারওয়াটার অবজারভেটরি সিস্টেম” গড়ে তুলছে চীন।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ চীন সাগরের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র গুলি নিজেদের মধ্যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। চীনের পাশাপাশি বহু দেশ ইতিমধ্যেই দক্ষিণ চীন সাগরের উপর নিজেদের দাবি প্রকাশ করেছে। তবে চীনের মতো সামরিক ক্ষমতা সম্পন্ন নয় বাকি দেশগুলি। তাই আধিপত্য বিস্তারের এই লড়াইয়ে স্বভাবতই এগিয়ে আছে চীন। তবে ইদানিং আমেরিকা চীনের এই পরিকল্পনায় বাধ সাধছে। দক্ষিণ চীন সাগরে মাঝেমধ্যেই টহল দিতে দেখা যাচ্ছে মার্কিন নৌ-সেনাদের।

জলপথের পাশাপাশি দক্ষিণ চীন সাগরের আকাশেও মার্কিন বোমারু বিমানকে টহল দিতে দেখা যাচ্ছে। এদিকে ভারতীয় নৌসেনা বিভাগও দক্ষিণ চীন সাগরে ধীরে ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করছে। ফলে বিতর্কিত অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করতেই গোপনে সমুদ্রের তলায় এই অবজারভেটরি সিস্টেম করে তুলছে চীন। উল্লেখ্য, এর আগে দক্ষিণ চীন সাগরে একটি কৃত্রিম আইল্যান্ড গড়ে তুলেছিল পিপলস লিবারেশন আর্মির নৌ সেনা সদস্যরা।

সম্প্রতি, আমেরিকার স্যাটেলাইটে যে চিত্র ধরা পড়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, গভীর সমুদ্রের তলদেশে অবজারভেটরি প্লাটফর্ম গড়ে তোলার পাশাপাশি দক্ষিণ চীন সাগরে রানওয়ে, এয়ারক্রাফট হ্যাংগার, রাডার, মিসাইল রাখার জায়গাও তৈরি করে নিয়েছে চীন। উল্লেখ্য, দক্ষিণ চীন সাগরের তলায় উপস্থিত খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডারের দাবিদার এই মুহূর্তে চীনসহ ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই এবং তাইওয়ান। বিপুল পরিমাণে খনিজ সম্পদের উপস্থিতির জন্যেই প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলি কাছে এই অঞ্চলটি বিতর্কিত।