অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করে বিপাকে চিন, বিরাট ক্ষতির আশঙ্কা বেজিংয়ের

ভারতসহ অন্যান্য রাষ্ট্রের সীমান্ত আগ্রাসনের চেষ্টার ফলে বিশ্বের বহু দেশ চীনের প্রতি বিরূপ হয়ে পড়ছে। কূটনীতিকদের মতে, ভবিষ্যতে এর ফলে মারাত্মক দুর্বিপাকে পড়তে পারে চীন। ইতিমধ্যেই সীমান্ত আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে ভারত, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে শত্রুতা বাঁধিয়ে বসেছে বেজিং। কিন্তু হিসেব বলছে, এই রাষ্ট্রগুলির ওপরেই চীনের ব্যবসা-বাণিজ্য, খাদ্যশস্যের আমদানি-রপ্তানি নির্ভর করছে। তাই এই দেশগুলির সাথে শত্রুতা করলে, চীনের পক্ষে তার ফল ভালো হবে না।

উল্লেখ্য, প্রতিবেশী রাষ্ট্র গুলির মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল চীন। কৃষিজাত পণ্য থেকে শুরু করে, কারখানা জাত পণ্য; অস্ট্রেলিয়ার উৎপাদিত ফসলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমদানি করে চীন। ফলে, উভয় রাষ্ট্রই একে অপরের প্রতি বাণিজ্যিকভাবে নির্ভরশীল। এখন যদি, কূটনৈতিক কারণে উভয় রাষ্ট্রের প্রতি সৃষ্ট শত্রুতার জেরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবে চীন এবং অস্ট্রেলিয়া।

একদিকে করোনা মহামারীর প্রকোপ, অন্যদিকে সম্প্রতি বিধ্বংসী বন্যার কবলে পড়েছে ড্রাগনের দেশ। অন্যান্যবারের তুলনায় এবারের বন্যা চীনকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে। মে মাস থেকে মুষলধারে বৃষ্টির জেরে, জুন মাস থেকেই চীনের বিভিন্ন এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। চীনা সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বৃষ্টির জলে ইয়াংসে প্রায় ৪০০ টি ছোট-বড় নদীর জল উপচে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও, আমেরিকা, কানাডা এবং জাপান থেকে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যশস্য আমদানি করে চীন। তবে, সীমান্ত সম্পর্কিত উত্তেজনার জেরে এই দেশগুলি এরপর থেকে আদেও চীনের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখবে কিনা, সে সম্পর্কে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা। কুটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চীনের প্রতি বদলা নিতে এবার থেকে হয়তো রপ্তানি শুল্ক বাড়িয়ে দিতে পারে আমেরিকা। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক মহলে বেশ চাপে রয়েছে চীন।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন

/p>