সীমান্তবর্তী এলাকায় সেতু, রাস্তা বানাচ্ছে চিন, লাদাখে ধরা পড়ল চিনের একাধিক কার্যকলাপ

শেষ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যেভাবেই হোক সেনার অবস্থান পরিবর্তন করতেই হবে, কিন্তু সেই সব যে একেবারেই সেগুরে বালি সেটা স্পষ্ট বোঝাই যাচ্ছে। দুই দেশের কমান্ড্যার যে চুসুল সেক্টরে শেষ বৈঠক করেছিল, সেখানেই স্পষ্ট জানানো হয়েছিল লাল ফৌজ যে অবস্থান বদল করে, তারা যেনো পিছু হটে যায়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সেটা তো তারা মানছেই না, সাথে সীমান্ত বরাবর একেবারে দারুণ সামরিক পরিকাঠামো তৈরী করছে।

সামনেই জাঁকিয়ে পরতে চলেছে শীত, আর সেই হিসেবেই পাহাড়ি অঞ্চলে স্থায়ী ভাবে ঘাটি গাড়ার ব্যবস্থা করছে তারা। সেখানে দেখা যাচ্ছে ছোট ছোট ঘর, এমনকি যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে রাস্তা ও সেতু পর্যন্ত বানাচ্ছে চিনা সেনারা। সামনেই বরফে ঢেকে যাবে উপত্যকা, তার জন্য শীতের মধ্যেও যাতে ভারতীয় সেনারা তাদের কাজ করতে পারে, এর জন্য ইতি মধ্যে আধুনিক সব বস্ত্র, শীতের পোশাক, তাবু সব কিছুই পৌছে গেছে সেখানে।

এই সব শীত বস্ত্র আগের থেকে আরও বেশী উন্নত, কারণ সেনাদের শরীর গরম রাখতে, একেবারে মাইনাস ডিগ্রীতে দারুণ উপযোগী। ভারতীয় সেনারা এখন একেবারেই প্রস্তুত কয়েকমাসের জন্য। রেশন থেকে শুধু করে, প্রয়োজনীয় সমস্ত তাদের এখন মজুত করা আছে। তবে এই দেখে চিনও প্রস্তুত হচ্ছে।

প্যাগং লেকের ধারে, তাবু , স্পিড বোট, আগের থেকেই দেখা গিয়েছিল, সাথেদেখা যাচ্ছে নতুন রাস্তা, ব্রিজ সমস্তটাই। স্যটাইলাইটের মাধ্যমে ও ভারতীয় সেনা সূত্রে যে খবর পাওয়া গেছে, তারা জানাচ্ছে কারাকোরাম পাসের ৩০ কিমি পূর্বে চিনা সেনার তৈরী রাস্তা, ছোট ছোট ঘর, ব্রিজ সব দেখা যাচ্ছে। সাজুন পাহাড়ের কাছে, যেখান দিয়েই গেছে আন্তর্জাতিক সীমানা, সেখানেই পুরোদমে নির্মাণকাজ চালাচ্ছে চিনা সেনা।

এই সব জায়গায় নতুন ভাবে নির্মাণ কার্য চালালেও যে অন্য সব সীমান্ত এলাকায় চিনা সেনারা আরও কিছু পরিকাঠামো তৈরী করেছে সেটা কিন্তু স্পষ্ট। বিশেষ করে দৌলত বেগ ওল্ডির কাছে চিনা সেনারা মিসাইল সিস্টেম, হেলিপ্যাড, ও আরও সামরিক সরঞ্জামের জন্য প্রস্তুত করেছে। এদিকে সেনা থাকার ব্যবস্থাও করেছে চিনা সেনা, কারণ দৌলত বেগের ৭০ কিমি পূর্বে কুইজিল জিলগার এলাকায় ৬ টির মতো নতুন বাড়ি তৈরী করা হয়েছে, সাথে সেনা সরঞ্জাম, কামান, রাখার জন্য ১৩০ কিমি জুড়ে চালাচ্ছে নির্মান কাজ।