উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়কে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করার ছক সাফল্য চিনের!

চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসকারী উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়কে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করতে এবার বন্ধ্যাত্ব করনের পথ বেছে নিয়েছে চীনা প্রশাসন! সম্প্রতি এরকমই এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট পেশ করল একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই উইঘুর সম্প্রদায়ের মুসলিম ধর্মাবলম্বী বাসিন্দাদের শিনজিয়াং প্রদেশ থেকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে চীন।

সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, উইঘুর সম্প্রদায়ের মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ দেওয়ার নাম করে দীর্ঘদিন ধরেই শিনজিয়াং প্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় তৈরি ডিটেনশন ক্যাম্পে কার্যত বন্দি করে রাখা হয়েছে। রিপোর্ট থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মুহূর্তে চীনের ডিটেনশন ক্যাম্পে উইঘুর সম্প্রদায়ের প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষকে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, জন্মহার নিয়ন্ত্রণের অছিলায় উইঘুর সম্প্রদায়ের গর্ভবতী মহিলাদের জোর করে গর্ভপাত ঘটানো হচ্ছে চীনে। এভাবেই জন্ম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উইঘুর সম্প্রদায়কে ধীরে ধীরে চীন থেকে নির্মূল করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে শি জিনপিং প্রশাসন। বেশ কিছু ক্ষেত্রে মহিলাদের সম্পূর্ণভাবে বন্ধ্যাও করে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি জানিয়েছে ওই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। চীনা প্রশাসনের তরফ থেকে অবশ্য এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভাবে খারিজ করে দিয়ে অন্য সাফাই দেওয়া হয়েছে।

চীনের দাবি, পরিবার নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতেই মহিলাদের বন্ধাত্বকরণ এবং গর্ভপাত ঘটানো হচ্ছে। তবে সংবাদমাধ্যমের দাবি বিগত ২০১৬ সাল থেকেই চীনে এই কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। শিনজিয়াং প্রদেশে আগে প্রতি এক লক্ষ জন পিছু ৫০ জনের বন্ধ্যাত্বকরণ করা হতো। আস্তে আস্তে তা বাড়িয়ে ২৫০ জন করা হয়েছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালে চীনে উইঘুর সম্প্রদায়ের প্রতি এক হাজার জন পিছু শিশু জন্মহার ছিল ১৫.৮৮ শতাংশ। ২০১৮ সালে তা কমে ১০.৬৯ শতাংশে নেমে দাঁড়িয়েছে।