রাজ্যে অনেকটাই কমেছে শিশু মৃত্যু, দেশে ৩ নম্বরে এল বাংলা

পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের মুকুটে নতুন পালক জুড়লো। সম্প্রতি, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের শিশু ও প্রসূতিকল্যাণ দপ্তরের তরফ থেকে প্রকাশিত রিপোর্টে জানা গেল, বাংলায় শিশু মৃত্যুর হার রেকর্ড হারে কমেছে। শিশুমৃত্যু নিয়ন্ত্রণের নিরিখে আগে দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের স্থান ছিল ষষ্ঠ। এবার এক লাফে তিন ধাপ এগিয়ে তৃতীয় স্থানে পৌঁছে গেল পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পাঁচ বছর বয়সী শিশু মৃত্যুহার আগের তুলনায় অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে বাংলা।

শুধু তাই নয়, দেশে বছরে গড়ে যেখানে ৩৩.৩% শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, সেখানেও উল্লেখযোগ্যভাবে সফলতা লাভ করেছে পশ্চিমবঙ্গ। বাংলায় বছরে শিশু মৃত্যুর গড় হার ২১.৩%। দেশের তুলনায় যা অনেকাংশেই কম। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকেরা এবং শিশু বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রাজ্যের কাছে এক উল্লেখযোগ্য সফলতা। কেন্দ্রের তরফ থেকে জানানো হয়েছে বিগত এক বছরে ০-১ বছর বয়সী হাজারটি শিশুর নিরিখে বাংলায় গড়ে মাত্র নয়টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এক বছর আগেও হাজার জন শিশু প্রতি ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বাংলায়। ১ থেকে ৫ বছর বয়সি প্রতি হাজার জনে চলতি বছরে গড়ে দশটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আগে এই বয়সী প্রতি হাজার জন শিশুর মধ্যে ২৬ জনের মৃত্যু হতো। এই রিপোর্ট পেয়ে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত রাজ্যের স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. অজয় চক্রবর্তী বলেছেন, প্রস্তুতি এবং শিশুমৃত্যু নিয়ন্ত্রণের জন্য সার্বিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে রাজ্য।

তিনি আরো জানিয়েছেন, রাজ্য সিক নিওনেটাল কেয়ার ইউনিট বাড়ানো হয়েছে। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত কম ওজনের সদ্যোজাত শিশুকে বাঁচানোর সম্ভব ছিল না। এখন উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি, এখন প্রতিক্ষেত্রে শিশু মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাঁচ বছর বয়সী শিশু এবং তাদের মায়ের পুষ্টিকর খাবার ও প্রতিষেধকের ব্যবস্থা করছেন রাজ্যের আশা কর্মীরা। যার ফলাফল হিসেবে, আগের তুলনায় রাজ্যে শিশু মৃত্যুর হার অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে।